আপডেটঃ
কক্সবাজারের মানবতার শ্রেষ্ট মানব সেবক ড়াক্তার রেজাউল করিম মনছুরযেখানে সেখানে কান পরিষ্কার করবেন নাসাকিবের না থাকাটা আমার জন্য বাড়তি দায়িত্ব : মিরাজআন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আইইই ডে’ পালিতইতিহাসে ১ম বার মার্কিন সেনার বৃহত্তম কমান্ডের দায়িত্বে নারী!৩৭ বছর পর ইরানের মেয়েরা ফুটবল মাঠেআবার নির্বাসনে তনুশ্রী?সৌদি বাদশাহর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককর্ণফুলীতে মামুন হত্যার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভকুমারীপূজা উপলক্ষে হিলি সীমান্তে বিজিবিকে মিষ্টি উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ভারতী বিএসএফবেনাপোল সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ ২ পাচারকারী আটকসব সদস্য রাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করলে শান্তি নিশ্চিত হয় : স্পিকারনির্বাচন কবে, জানতে চাইলেন মার্কিন কূটনীতিকসভাপতি কমল এমপি, সাধারণ সম্পাদক হুদা বঙ্গবন্ধু পরিষদ কক্সবাজার জেলা কমিটি অনুমোদনযশোরে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত

বিসিএস-এ সাংবাদিক ক্যাডার চাই

shanewaj-jillu-journalist.jpg

 

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার ॥

রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে গণমাধ্যম। কিন্তু গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা আজ চরমভাবে কলুষিত। অথচ এটি একটি গণমুখী ও সেবাবান্ধব মহৎ পেশা। কিন্তু এই সময়ে এসে পেশাটি সাধারণ জনগণের কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত পেশা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে যারা সাংবাদিকতা করছেন তারাও বিভিন্নভাবে ঘাতপ্রতিঘাত বাধা বিপত্তি ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছেন। এমনকি সংবাদপত্র ও সাংবাদিক বিরোধী অপরাধী চক্রের হাতে অনেক সাংবাদিক গণমাধ্যমকর্মী মামলা হামলা আক্রমণসহ হত্যা খুনের শিকার পর্যন্ত হচ্ছেন। এছাড়াও সরকারের বেশ কয়েকটি দায়িত্বশীল গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সাথে সময়ে সময়ে বিবাধ বিরোধ ও দুরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে ক্রমশ। আরো বিভিন্ন ভাবে অসহযোগীতার সম্মুখিন হচ্ছেন সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা। দিন যত গড়াচ্ছে সাংবাদিকতা পেশাটি ততই কঠিন হয়ে উঠছে। হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকতা। সৎ নিষ্ঠাবান সত্যিকারের লেখিয়ে সাংবাদিকরা এপেশা থেকে দুরে সরে যাচ্ছে, ক্রমশ হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। আর ঝাঁকে ঝাঁকে প্রবেশ করছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ক্রীড়নক অপরাধীরা। সাংবাদিকতার মুখোশ লাগিয়ে যে যেভাবে পারছে সুবিধা লুটে নিচ্ছে। সেই সাথে কলুষিত হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকতা। বাজে সাংবাদিকতার কারণে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে ফুসে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় গিয়ে জনরোষের শিকার হবেন ভালো খারাপ সব সাংবাদিকই। প্রশ্নবিদ্ধ হবে সাংবাদিকতা পেশাটিও। মোদ্দাকথা হচ্ছে এপ্রক্রিয়ায় সাংবাদিকতা চলমান থাকলে একে কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা বলা যাবেনা। মহৎ পেশা হিসেবেও এপেশাকে চিহ্নিত করা যাবেনা। বরং পেশাটি তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ হারিয়ে জাতির কাছে একটি ঘৃণিত পেশায় পরিণত হবে।

প্রিয় পাঠক, বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ইতিহাস দীর্ঘদিনের পুরোনো হলেও এপেশায় কোনো ধরণের শৃঙ্খলা বিদ্যমান নেই। এটি নিয়ে ওভাবে কেউ ভাবেনও না। ঘুষ মাশোয়ারা বা মামুলি সম্মানির বিনিময়ে এপেশার লোকজন দিন পার করে এসেছে। কেউ একটু যেচে সম্মান দিলে পাচ্ছে নতুবা না। কখনোও কখনোও নানা রকম মিথ্যা চলচাতুরির আশ্রয় নিয়েও অনেকে দুচার পয়সা আয় করে কোনোরকম দিন পার করছে। এসব কি মিথ্যা কথা? কতজন সাংবাদিক ওয়েজবোর্ড নির্ধারিত বেতন পান? অথবা ওয়েজবোর্ড সুবিধা ভোগ করছেন? হাউজগুলো কোন সাংবাদিককে কত টাকা বেতন দেন এর কোনো সঠিক উত্তর মালিকেরা দিতে পারবে? কেনো ব্যাক্তিগত অর্থে মিডিয়া হাউজ প্রতিষ্ঠিত হবে বা কোনো দলীয় গোষ্ঠীর অধীনে? অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কেনো মিডিয়া হাউজের মালিক হবে? সাংবাদিকতা কেনো আজও কোনো শৃঙ্খলা খুঁজে পায়নি? সাংবাদিকদের মাঝে কেনো এতো দ্বিধাবিভক্তি? ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে আজ কেনো সাংবাদিকতাকে বেছে নিচ্ছে অপরাধীরা? সাংবাদিক কখনো পুলিশ পেটায়না কিন্তু পুলিশ কেনো সাংবাদিক পেটায়? মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের আয়ের উৎস কি? দালালি আর সাংবাদিকতা কি একই? কোনো কোনো সময় সাংবাদিকরা দলীয় কর্মীর মতো ভূমিকা রাখেন; কিন্তু কেনো? এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর কি কেউ দিতে পারবেন? এধরণের হাজারও প্রশ্নবানে জর্জরিত এপেশাটি। এমনকি সাংবাদিকদের মধ্যে অনেক বাঘা বাঘা সাংবাদিকও নিজেদের কষ্টগাথা লিখেছেন; কিন্তু সমাধান নিয়ে কি কেউ কখনোও লিখেছেন?

তো যাই হউক ভূমিকায় অনেক কথা বলে ফেললাম। এখন আসি মুল কথায়। সাংবাদিকতা পেশার এহেন দৈন্যদশা পর্যবেক্ষণ করে প্রথমেই ভাবতে শুরু করি সাংবাদিকতা আসলেই কোনো পেশা কিনা, এরপরে এটি যদি পেশা হয়ে থাকে তাহলে কোন ধরণের পেশা, এই পেশার মতো আরোও অন্যান্য কি কি পেশা রয়েছে, সেসব পেশার বর্তমান হালহাকিকত কি?

হ্যাঁ, সাংবাদিকতা আসলেই একটি পেশা। শুধু পেশাই নয় এটি একটি জনবান্ধব সেবামূলক মহৎ পেশাও বটে। এধরণের আরোও অন্যান্য পেশাগুলো হচ্ছে- পুলিশ, শিক্ষকতা, আইনজীবী, চিকিৎসক ইত্যাদি। এসব পেশা সুনির্দিষ্ট একটি শৃঙ্খলা মেনে চলছে। এসব পেশায় ক্রমধারাও বিদ্যমান রয়েছে। রয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা ও নজরদারী। তাহলে সাংবাদিকতায় নয় কেনো?

আপনারা ভালোভাবেই অবগত আছেন, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে অর্থ্যাৎ বিসিএস’এ উপরে উল্লেখিত পেশাগুলো ক্যাডার পদে সুবিন্যস্ত করা আছে। কিন্তু একই ধরণের একই ক্যাটাগরির পেশা হওয়া সত্বেও কেনো সাংবাদিকতা পেশা বিসিএস ক্যাডারে নেই? এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করে রাখি সেটি হচ্ছে, ইতিপূর্বে বিসিএসে আইন পেশাও ছিলোনা। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় এপেশাটিও বিসিএসের মতো করে ‘বিজেএস’ এ অর্থ্যাৎ বাংলাদেশ জুড়িশিয়াল সার্ভিস কমিশনে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। একারণে এপেশাটিও একটি ভবিষ্যৎ খুঁজে পেয়েছে। ঠিক একই ভাবে যদি সাংবাদিকতাকেও বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভূক্ত করা হয় তাহলে বিষয়টি কতটা সুনিপুন হয় চিন্তাশীলরা একটু ভেবে দেখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ানো হয়। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ¯œাতক ¯œাতকোত্তর অধ্যয়ন করছেন। এসব শিক্ষার্থীর বিভাগ ভিত্তিক ক্যারিয়ার কোথায়? এরা কি বিসিএস সাংবাদিক ক্যাডার হওয়ার অধিকার রাখে না? পুলিশ, শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজসেবা, আইনজীবী যদি ক্যাডার হতে পারেন সাংবাদিকতার ছাত্ররা সাংবাদিক ক্যাডার হতে পারবেন না কেনো? এটিওতো অন্যান্য সেবামূলক পেশার মতোই পেশা। যে পেশার লোকজনদের নিষ্ঠাবান ভূমিকা একদিন রাষ্ট্রকে আরোও বেশী শক্তিশালী করে গড়ে তোলবে। আমার মতে এই একটি বিষয় সংস্কার বা সংযোজন করা গেলে এসব ৩২ ধারা বা ৫৭ ধারা নিয়ে আর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবেনা কারোই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও বর্তমান চিন্তাশীল সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আকুল আবেদন, উপরোক্ত বিষয়টি একটিবার ভেবে দেখুন। আজ এপর্যন্ত লিখে শেষ করছি। আগামী পর্বে লিখবো, “বিসিএস ক্যাডারে সাংবাদিকতার রোড ম্যাপ” শিরোনামে। এছাড়াও আমার এপ্রবন্ধটিকে অনুসরণ করে কোনো জেষ্ঠ্য সাংবাদিক বা চিন্তাশীল লেখক যদি উপরোক্ত বিষয়ে লিখেন তাহলে সেটি হবে আমার জন্যে সোনায় সোহাগা।

শাহনেওয়াজ জিল্লু

ফ্রিল্যান্সার (রিপোর্টিং এবং ফটোগ্রাফি)

কক্সবাজার।

০১৬৮২৭৯৩৫১২

shahnewaz.zillu@gmail.com

Top