আপডেটঃ
বিএনপি নেতা খসরুকে দুদকে তলববুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় গোলাম সারওয়ারঅটল বিহারী বাজপেয়ী আর নেইমুক্তিযোদ্ধা বিন্টু মোহন বড়ুয়া ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নিবেদিত প্রাণ সমাজ সেবক- এমপি কমলবহু ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়ে দেওয়া সেই প্রতারক ডিবির হাতে গ্রেফতার“১৫ আগস্ট শুধু শোক দিবস নয়। জগত বিখ্যাত মহান নেতার স্মরণে বাঙ্গালীর একটি শোকাহত দিন”-ফারুক চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যানযৌন হয়রানির অভিযোগ, শীর্ষ চীনা সন্ন্যাসীর পদত্যাগআমরা শঙ্কার মধ্যেই এগিয়ে যাই: সেতুমন্ত্রীনিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে বাধ্য করতে হবে : ফখরুলঅশ্রু-শ্রদ্ধায় গোলাম সারওয়ারকে বিদায় জানালেন গ্রামবাসীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাচট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় থানা পুলিশ অপারগ হলেও ,সফলতা দেখিয়েছে ডিবি পুলিশহাইকোর্টে জামিন পেলেন চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমইতালিতে ব্যস্ততম সেতু ধসে বহু হতাহতের শঙ্কাঘরেই তৈরি করুন রঙিন স্যান্ডউইচ

জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই: প্রধানমন্ত্রী

pm.jpg

বাংলাট্রিবিউন :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের সরকারের সময় ছয় হাজারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। একটা নির্বাচন নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে নাই। কারণ, আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করি নাই। করবোও না আমরা। জনগণের এটা অধিকার।জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশে একটা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসুক। সেটা ফিরে এসেছে। এটাই যেন কেউ আর বানচাল করতে না পারে, নষ্ট করতে না পারে।’
বৃহস্পতিবার (১৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যারা এই দেশে কারফিউ দিয়েছে, তারা নির্বাচন সুষ্ঠু কিনা, তা নিয়ে কথা বলে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জোর গলায় গণতন্ত্রের কথা বলে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলো কিনা সে বিষয়ে বক্তব্য দেয়। কিন্তু আমরা যদি প্রশ্ন করি, এই দেশে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ কারা করেছে? জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। তার হ্যাঁ/না ভোট, তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, অথবা সেই ৭৯ সালে সংসদ নির্বাচন— প্রত্যেকটা নির্বাচনে ভোট চুরির প্রক্রিয়াটা আছে। এই দেশে দুর্নীতি এবং ঋণ খেলাপি কালচার, এটাতো তারাই তৈরি করেছে। অবৈধ ক্ষমতা দখল করে একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে তাদের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা— এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই যারা অন্ধকার পথে ক্ষমতায় আসে, অস্ত্র ঠেকিয়ে রাষ্ট্রপতি সায়েমকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে, তারা আবার গণতন্ত্র কীভাবে দেয়, সেটা আমি জানি না। এমনকি প্রতিদিন তো কারফিউ ছিল। তার মানে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছে, জনগণতন্ত্র তারা দেয় নাই। এটাই হলো বাস্তবতা এবং গণতন্ত্রের ভাষাও তারা বোঝে না। যারা সব সময় জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের মুখে নির্বাচন, গণতন্ত্র আবার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কথা শুনতে হয়।’
সুশীলসমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু লোক আছে, যারা দলও গঠন করতে পারে না,নির্বাচনও করতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশটা তাদের আছে। যদি কোনও অবৈধপন্থায় কেউ ক্ষমতা দখল করে, অথবা ইমার্জেন্সি আসে, অথবা মিলিটারি রুলার ক্ষমতা নেয়, তখন তাদের গুরুত্বটা বাড়ে। তখন তারা নাকি একটা পতাকা পায়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য এই দেশের। এরা জ্ঞান-গুণী হয়েও এই ধরনের পাপ মন নিয়ে কাজ করে। এই দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারে আছে। গণতন্ত্র আছে বলেই তো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি, আজকে আকাশ জয় করেছি। এই স্যাটেলাইট নিয়ে কত কথা এবং আরও অনেক কথাই তারা বলে। নিজেদের যদি মাথায় ঘিলু কিছু কম-টম থাকে তাহলে তো বলবেই। আমি নেভির জন্য সাবমেরিন কিনেছি। এই সাবমেরিন উদ্বোধন করে আসতে পারলাম না, বক্তৃতা শুনলাম যে, সাবমেরিন নাকি ফুটা, ফুটা পুরনোটা কিনেছি। ওটা নাকি পানির নিচে চলে গেছে। সাবমেরিন তো পানির নিচেই যাবে। সেই জন্যই তো আনা, সেই অভিযোগ আসলো।’
তিনি বলেন, ‘‘পদ্মা সেতুতে যেদিন স্প্যান উঠলো। সব পত্রিকা লিখলো পদ্মা সেতুর স্প্যান উঠেছে। সেই কথা শুনেই একজন বক্তৃতা দিয়ে ফেললেন, ‘জোড়া-তালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে, কেউ ওই সেতুতে উঠবেন না।’ আমি দেখবো ভবিষ্যতে এই সেতু হওয়ার পর তারা ওঠে কিনা। স্যাটেলাইট সম্পর্কে তো আরও কথা। কী যেন একটা আগুন জ্বালাইয়ে আকাশে উড়ে গেলো, আমরা কী পেলাম? এটা থেকে কী পাবে, সেই সাধারণ জ্ঞানটুকুও যাদের নাই, তারা ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়নটা কীভাবে করবে, এটা আপনারাই বিবেচনা করেন। দেশবাসী বিবেচনা করেন।’’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টকশোতে বলছেন বা মাইকের সামনে বলছেন। কথাটা বলার পর যখন বলেন স্বাধীনতা নাই, তখন আমার প্রশ্ন, তাহলে এত কথা বললেন কীভাবে? অনলাইন মিডিয়া এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া-এর একটা নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। অনলাইন মিডিয়ার নীতিমালা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও। আমি জানি না সাংবাদিকরা কেন আতঙ্কিত হচ্ছে নীতিমালা নিয়ে। আওয়ামী লীগ তো কখনও হয়রানি করে না। একটা মানসিক ব্যাধি আছে আমাদের দেশে। অনেকে মনে করে সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন না করলে গণমাধ্যম চলবে না। এই মানসিক ব্যাধি থেকে আমাদের বের হতে হবে। দেশের জন্য যদি ভালো কাজ করে থাকি, সেটা যেন একটু ভালোভাবে প্রচার করা হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে বাংলাদেশে আসার পর আজ (১৭ মে) ৩৭ বছর পূর্ণ হলো। তবে দুঃখের কথা আমি কখনও প্রেসের কাছ থেকে খুব বেশি সহযোগিতা পাইনি। সব সময় একটা বৈরিতা নিয়েই আমাকে এগুতে হয়েছে। সমালোচনার মুখোমুখি হয়েই আমাকে এগুতে হয়েছে। কিন্তু আমি সেই গুলো নিয়ে কখনও মাথা ঘামাইনি। কারণ, আমি জানি আমি কী কাজ করছি। ন্যায় এবং সত্যের পথে থাকলে, সৎ পথে থাকলে ফলাফল পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের পর আমি দেখেছি, বিএনপির অত্যাচার-নির্যাতনের কথাটা অনেকেই লিখতে চায়নি। আবার অনেকেই সাহসের সঙ্গে সংবাদ দিয়েছে। যারা দিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাই, আর যারা দেয় নাই তাদের করুণা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নাই। আপনারা জানেন যে, দুটি পত্রিকা আমি কিন্তু পড়িও না,রাখিও না। গণভবনে ঢোকা নিষেধ। দরকার নেই আমার। ওই সার্কাসের গাধার মতো যারা বসেই থাকে দড়ি ছিড়বে কবে, আর পতাকা পাবে কবে? তারা তো আমার দেশের জন্য কল্যাণের কাজ হবে না। তাদের আমার দরকার নাই।

Top