আপডেটঃ
কক্সবাজারে ইপসা’র নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিতমিডিয়ার হাত বেঁধে দিয়েছে সরকার : নজরুলদলে নেই মুশফিক-মোস্তাফিজ, অভিষেক দু’জনেরগোলদিঘীর সৌন্দর্য্য বর্ধন, মাস্টার প্ল্যান ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা- ১৯৯৬ নিয়ে ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের জনসাধারণের সাথে কউকের মতবিনিময় সভা সম্পন্নকর্ণফুলীতে সিপিপি স্বেচ্চাসেবক সম্মাননা-২০১৮ এর জন্য মনোনিত হলেন যারাচট্টগ্রামে গ্ল্যাস্কো কারখানার শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধকক্সবাজারে ‘শেখ হাসিনার উন্নয়নের গল্প’ প্রচারে ছাত্রনেতা ইশতিয়াকমাঝির কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিচট্টগ্রাম কলেজে অস্ত্র হাতে মহড়া:শংকিত সাধারন শিক্ষার্থীরাচট্টগ্রামে এক ওসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগরামুতে শহীদ লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২১ সেপ্টেম্বরবিএনপির ১৭৩ প্রার্থী প্রায় চূড়ান্তরামুর গর্জনিয়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের নারীসহ আহত ৫কক্সবাজারে প্রথম নির্মিত হচ্ছে সি,আই কোম্পানি ইন্ডাস্ট্রিজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ইওসি স্থাপন

সব পাখি মাছ খায়, তারপরেও সব দোষ মাছরাঙ্গা পাখির

ab.jpg

জে,জাহেদ সাংবাদিক ও লেখক:

ইংল্যান্ড এর পুলিশ প্রশাসনের বেশ সুনাম রয়েছে বলে আমার প্রবাসী বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছি। কিছু দিন আগে আমার ছোট ভাই সৌদিআরব হতে ছুটিতে এসে সৌদি পুলিশের বেশ গুণগান করলো। একটা লাঠি নিয়ে নাকি পুরো শহর নিয়ন্ত্রন করে পুলিশ। কোন সমস্যা হয়না।

সেদেশের সড়কে নাকি শেখদেরও নিয়মনীতি মানতে হয়। তুলনা করতে গেলে বলতে হয়, এসব ক্ষেত্রে বেশি বদনাম বাংলাদেশী পুলিশের। কোন না কোন উপায়ে বাংলাদেশের পুলিশের হয়রানির কথা প্রায় শুনি। আর যে পেশায় কাজ করি তাতে আরো বেশি জানা যায় নানা অভিযোগ।

কেন জানি মনেহয়, নিয়ম না মেনে অনিয়মে চলতে দিলে পুলিশ ভালো। আর অনিয়মে জনগণ চলবে তাতে পুলিশকে কিছু দিলে বদনাম চরমে। আমাদের ভাবা উচিত, যে দেশের জনগণ যত বেশি আইন ও নিয়ম মেনে চলে, সে দেশ ততবেশি উন্নত। তবে এটা নিশ্চিত এই মুর্হুতের বাংলাদেশের খুব বেশি প্রয়োজন সৎ পুলিশ অফিসার। দেশে সৎ পুলিশ অফিসার নেই তা নয়। কিন্তু তার প্রতিচ্ছবি কম দেখা যায় বলে আরো দরকার।

কোনো থানায় বা জেলায় যখন অপরাধ দিন দিন বাড়তেই থাকে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি শুরু হয়। খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই রাহাজানি, চাঁদাবাজি, মাদক, প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটতে থাকে। নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না অপরাধ, ঠিক তখনই ওই থানায় বা জেলায় দুর্দান্ত সাহসী ও সৎ পুলিশ অফিসার পাঠানো হয় উপরি মহলের নির্দেশে।

আর ওই পুলিশ অফিসার তার সৎ সাহসকে পুঁজি করে জনগণের শান্তির জন্য দিনরাত এক করে সকল অন্যায়কে বিতাড়িত করে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে কার্যকর ভুমিকা রাখে। বাংলাদেশ পুলিশের এমন কিছু অফিসার রয়েছে, যাদের উপর পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের ভরসা রয়েছে।

যেমন চট্টগ্রাম ডিবির একজন সহকারি সিনিয়র পুলিশ কমিশনার যিনি বহুবার পুরস্কৃত। এমনকি বর্তমান কুতুবদিয়া থানার ওসিও এক অফিসার। যিনি জাতিসংঘ মিশনেও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

এসব অফিসারেরা অন্ধকারালয় থেকে একটি পুলিশ বিভাগকে, একটি ডিবি পুলিশের সেক্টরকে কিভাবে আলোয় নিয়ে আসতে হয় তা দেখিয়ে যাচ্ছেন। যাদের টেবিল অসহায় বিপদগ্রস্ত মানুষের শেষ ভরসা বলে মনে করে জনগণ ।

পুলিশ যে,কোন ভয়ংকর প্রাণী নয়। পুলিশ যে, কোন আতংকের নাম নয়, তা এদের দেখে জনগণ বুঝতে সক্ষম হয়। বর্তমানে পুলিশের স্টেশন শুদ্ধতার স্থান, পুলিশ জনগণের বন্ধু, সংস্কারক এটাই প্রমাণিত হয়েছে ওদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা আর সুমিষ্টপ‚র্ণ ব্যবহার ও আতিথেয়তায়।

অনেকে মনে করে ডিবি পুলিশ/থানা পুলিশ মানে কতো নির্দয়, গোয়েন্দা স্থান মানে নিষ্ঠুরতা ও ভয়ের কারাগার। কিন্তু কিছু সৎ অফিসার তাদের আন্তরিক সেবায় তা ভুল প্রমাণ করেছে। আজ আম‚ল পরিবর্তন করে দিচ্ছেন কুতুবদিয়া দ্বীপ কিংবা সিএমপিকে।
এসবে একটাই ওদের গোপন রহস্য। স্বাধীন ভাবে কাজ করা, মিষ্টি হেসে মানুষের সাথে কথা বলা, প্রাণ ভরে মানুষের কথা শোনা। সাধারন জনগণের জন্য এই অফিসারদের দরজা সব সময় খোলা রাখা। সেবারূপ বৃদ্ধি করে পুলিশের ভাবম‚র্তি ও জনপ্রিয়তা অর্জন যাদের নিরন্তর পথচলা।

যদিও আমরা মাঝে মাঝে দেখি সাধারণ অভিযোগ নিতেও টাকা আবার জিডি তদন্ত করতেও টাকা চাওয়ার মতো নানা অভিযোগ। যা দুঃখজনক আর সেবার নামে জুলুম।

অন্যদিকে শুধু তাই নয়, বহু পুলিশ দক্ষতা, সততা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাজকর্মে। যেমন প্রান্তিক নিপীড়িত অসহায় মানুষের কথা মন দিয়ে শোনেন, তেমনি সেবা সহযোগীতার হাতও বাড়িয়ে দেন। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার মনের ব্যাপ্তি যে কতো বিস্তৃত হতে পারে, তা ঘুটি কয়েক অফিসার দেখে বুঝা যায়।

প্রকৃতপক্ষে কোনো মানুষের ভেতরের পরিবর্তন না হলে তার বাহিরেও পরিবর্তন আসে না, এটা যেমন সত্য তেমনি তাঁর আচার আচরণ চলাফেরায় ইতিবাচক মনোভাব তৈরির পাশাপাশি তার আশপাশের জগতকেও পরিবর্তনে ভুমিকা রাখতে হয়। যেমনটি সব অফিসারের মুখে অনেকের সুনাম এক বাক্যে শোনা যায়।

যাদের সততা, দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠতার কারণে ধারাবাহিকভাবে পুলিশে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হন। নানা সেবাম‚লক কর্মকান্ডের জন্য পদক প্রাপ্ত হন তাঁরা।

পুলিশি কর্তব্য পালনের পাশাপাশি অনেকে সাহিত্য প্রেমী মানব। অনেকে বলে মহৎ মানবীয় তারা, তবে অনেকে বলেন সৎ মানুষ বটে । শুধু মানুষ নন, একজন পুলিশও বটে। তবে পুলিশ ন‚রের তৈরি ফেরেস্তা নয়, আগুনের তৈরি শয়তানও নয়। মাটির তৈরী রক্তমাংশে গড়া মানুষ। আমাদের মতই মানুষ। যাদের মানুষের মতই ভুল থাকবে, ভালো থাকবে, দোষ-ত্রুটি থাকবে আবার সততা-সাহসিকতাও থাকবে।

ফেরেস্তাদের কাছে আমরা ভুল আশা করি না, শয়তানের কাছে আমরা ভালোও আশা করি না। এটাই সত্য ভুল আর ভালো মিলেমিশে মানুষ। যার সবকিছু আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত থাকি।

পুলিশকে মানুষ ভাবলে তাদের দোষ-গুণ সবকিছু আমরা মানবিক দৃষ্টিতে বিচার-বিবেচনা করতে পারি। এটাই করণীয়, এটাই কাম্য। এমন কিছু যোগ্য সৎ পুলিশ অফিসারের কারনেই বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর কিছু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে।

যাদের কথা কেহ আলোচনা করেনা বা পত্রিকায় তুলেনা কেননা পুলিশ সর্ম্পকে গণমানুষের মুখস্ত বানী। আসন পেতে বসেছে যুগ যুগ ধরে। যা নেগেটিভ ধারণা। কিন্তু আজ অনেকটা পরির্বতন এসেছে পুলিশের ভেতরে। জনগণের কষ্টে পুলিশ এখন চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনা। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়। আবার দেশের জন্য জীবনও দেয়।

পুলিশের এমন কয়েকটি মহৎ কাজের উদাহরণ দিচ্ছি, যেমন সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক বদিউল আমিন চৌধুরী রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকার ব্যাগ মালিককে ফেরত দেন,চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানার এসআই শামসুর রহমান জাকির হোসেন রোডে কুড়িয়ে পাওয়া চৌষট্টি হাজার টাকার দুটি চেক প্রকৃত মালিককে ফেরত দেন।

৩য় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নায়েক মো. নুরুন্নবী এবং ৫ম এপিবিএন এর হাবিলদার সোলায়মান কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ভর্তি মানিব্যাগ মালিককে খোঁজ করে তা ফিরিয়ে দেন,নিরলস পরিশ্রম করে মাদকের স্বর্গরাজ্য কুখ্যাতি থেকে সিএমপির বাকলিয়া থানাকে মুক্ত করেছিলেন ওসি মোহাম্মদ মহসিন পিপিএম।

এমনকি এক কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা ম‚ল্যের স্বর্ণ উদ্ধার করে ব্যতিক্রমী এক উদাহরণ সৃষ্টি করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরঘাট থানার এসআই আনোয়ার হোসেন, সাত হাজার ডলার পাউন্ডের (প্রায় ১০ লাখ) লোভ স্পর্শ করতে পারেনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এপিবিএনের কনস্টেবল শাকিল আহমেদকে, পাউন্ড ভর্তি একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েও ,তিনি তা না লুকিয়ে মালিককে খুঁজে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

তবে বলতে পারেন সব শ্রেণী পেশায় দুএকজন অসৎ অফিসার থাকতে পারে সব বিভাগে। সততার পাশাপাশি বীরত্বপ‚র্ণ কাজ, দক্ষতা, কর্তব্য নিষ্ঠায় পুলিশের অবদানও কম নয়। অনেকে দায়িত্বপালনের জন্য গুরুতর আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, এমনকি নিজের জীবন উৎসর্গও।

উদাহরণস্বরুপ বলতে পারি, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানার আজম মাহমুদ সেই সাহসী পুলিশ অফিসার যাকে সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়ার পর মৃত ভেবে বালির বস্তা ভরে কোটচাঁদপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদে ছুড়ে ফেলেছিল। তারপর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা জীবিত বলে ঘোষণা দেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুলায় এসআই ফরিদা আক্তার একাই জাপটে ধরে আটক করেন পেট্রোল বোমাসহ দুই পিকেটারকে। বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চোরদের ঢাকা থেকে ধাওয়া করে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানা এলাকায় আটক করার পওে, চোরদের রডের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক শরীফুল ইসলাম খান।

মহেশখালীতে সন্ত্রাসী ধরতে গিয়ে গুলি খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন মুক্তিযোদ্ধা এসআই পরেশ বাবু কারবারী, লালমনিরহাট থানার এসআই আসাদুজ্জামান মিলন নরসিংদী বস্ত্রালয় হতে চুরি হওয়া কাপড়ের গাইট বাঁচাতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে আঘাত করে চলন্ত গাড়ি থেকে সড়কে ছুড়ে ফেলে দেয়। হাসপাতালে ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি হেরে যান। মহেশখালিতে মারামারির ঘটনা সমাধা করতে গেলে, নির্মমভাবে সন্ত্রাসীরা রক্তাক্ত করে জখম করেছিলো এসআই তাজুল ইসলামকে।

এমনকি মাঝরাতে টহলরত অবস্থায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন পুলিশ সার্জেন্ট কবির হোসেন। এবার বলুন কার জন্য এসব আত্মত্যাগ!! তাঁরা কি তাঁদের মা, বাবা, ভাই-বোন কিংবা সম্পদের জন্য এসব ঝুঁকি নিয়েছিলেন? নাকি দেশ মাটি ও মানুষের জীবন রক্ষার তাগিদে তাঁরা বুক পেতে দিয়েছেন মৃত্যুকে তুচ্চ মনে করে।

একটাই ভরসা তাদের, ৪০০গ্রাম ওজনের পুলিশের ইউনিফরম গায়ে দিলেই দেশাত্মবোধ জেগে ওঠে। দেশের জন্য তাদের প্রাণ তুচ্চ মনে করেছিলো বলে অন্যায় রোধ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে এরকম জনবান্ধব পুলিশ অফিসার রয়েছে বলে এখনো নিরাপদে মানুষ বাসায় রাতে ঘুমাতে পারে।

অন্যদিকে কক্সবাজার উখিয়া থানার এক নির্ভীক ও সাহসী পুলিশ কনষ্টেবল মোহাম্মদ বোরহান। ঐ থানায় যোগদানের পর থেকে বেশ কয়েকজন কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, দীর্ঘ দিনের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তারে ভুমিকা রেখে পুলিশ বিভাগকে যারপরনাই প্রশংসিত করেছেন।

অন্যান্যদের মধ্যে অর্পিত স্বীয় দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিহত হন নারী কনস্টেবল আকলিমা বেগম ও মামুনী খাতুন, অগ্নিদগ্ধ হয়েছে কনস্টেবল মোর্শেদ আলম, গুরুতর আহত হন সার্জেন্ট গোলাম মাওলা, নারী কনস্টেবল শাহানাজ পারভীন, জিয়াসমিন, লিজা আক্তার, আলফা সুলতানা, সালমা আক্তার, সীমা, ফরিদা খাতুন, মনিকা আক্তার, কাবিরী নন্দী ও কনস্টেবল এশারুল সহ অসংখ্য সাহসী পুলিশ সদস্য।

জগত বড় নিষ্ঠুর। সামান্য পুলিশের দোষে রাতে টকশো ভারি হয়। বলতে পারেন দেশের কোন বিভাগে ঘুষ চলেনা, দুর্নীতি হচ্ছেনা? আবার দুদকের ভয়ে অপরাধও কমতেছে কিন্তু। অথচ সব পাখি মাছ খায়, তারপরেও সব দোষ মাছরাঙ্গা পাখির। সবাই ঘুষ খায় তারপরেও পুলিশের বদনাম বেশি। কেননা সিভিল প্রশাসনে মাঠে পুলিশ। কাজ করতে হয় সাধারণ মানুষের সাথে।
পাঠকের নিশ্চয় মনে আছে। নারায়ণগঞ্জের উপনির্বাচনে আইনশৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মদনপুর ও ধামকুর ইউনিয়নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এএসপি বসিরউদ্দিন নানাম‚খী প্রতিক‚লতার মাঝেও তাঁর কর্তব্য নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছিলেন।
পুলিশ শুধু দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধ দমনে অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ ও প্রশংসনীয় ভুমিকা রেখে যাচ্ছে তা নয়। দেশের সীমানা পেরিয়ে আজ বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এ বাহিনীর সদস্যগণ অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ ও বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করছে।

অন্যান্য অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মতো পুলিশের কর্মকান্ড-ও বির্তকের উর্দ্ধে নয়। এটি কাম্যও নয় কারণ পুলিশ ন্যায় করলেও সেই ন্যায়ের একটি প্রতিপক্ষ থাকবে যারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবী করবে এবং এই ন্যায়ের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিম‚লক নেতিবাচক প্রচারণা করবে। রূঢ় বাস্তবতা হলেও এটাই স্বাভাবিক। ভাগ্য খারাপ হলে যে মানুষ ঈশ্বরকেও দোষারূপ করতে ছাড়ে না।

নিজের লোকশানের ক্ষেত্রে খারাপ মানুষেরা পুলিশকে ছাড় দেবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। তাই কিছু পুলিশ অফিসারের ভেতর বিবেক, ব্যক্তিত্ব, দেশত্ববোধ, দায়িত্ববোধ জেগে ওঠা দরকার সেটা স্বীকার করতেই হবে। অনেকের ধারণা পুলিশ ভাল হলে বাংলাদেশ ভালো।

আমি বলি পুলিশের সাথে সাথে জনগণ যদি আইন মেনে চলে তবে আরো এগিয়ে যাবে দেশ। আমার একথা পুলিশের দালালি নয় বরং আমিও খারাপ পুলিশ বিদ্বেষী এক সাংবাদিক।
পুলিশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কম হলেও ঢালাও ভাবে অভিযোগ অনেক। তাদের বিরুদ্ধে যাই বলা হোক না কেন, সমাজে তার একটা বিশ্বাসযোগ্যতা আছে। এমন অবস্থা যেমন একদিনে তৈরি হয়নি। তেমনি রাতারাতি তা বদলানো যাবেনা, আশা করাও ঠিক না।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বর্তমানে র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, পুলিশ কোন গ্রহের অধিবাসী নয়, তাঁরা এ সমাজেরই অংশ। সমাজের শতভাগ মানুষ যেদিন সৎ হবে ,কেবল সেদিনই শতভাগ সৎ পুলিশ পাওয়া যাবে।
চিরন্তন একটি সত্য কথা বলেছেন ওনি। পুলিশের উপর চাপটা মুক্ত করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের পুলিশের মতো স্বাধীন হতে দিন আমাদের পুলিশকে। তারপর দেখেন সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা বদলায়। তার আগে আমাদের জনগণকে ও বদলাতে হবে। হুজুগে বাঙ্গালী চোরের অপরাধে আটক হলে পুলিশকে ৫০ হাজার টাকা দেয় ছাড়া পেতে কিন্তু আদালতের উকিলকে ৫০০ টাকাও দিতে চায়না।

অন্যদিকে বর্তমানে পুলিশের ভাবম‚র্তি বদলাচ্ছে। মাত্র ১০০ টাকায় বহু জেলায় পুলিশ কনস্টেবল এর চাকরির সুযোগ দিচ্ছে। সুতরাং বদলাতেই হবে কারণ বদলানোর উপায় আমাদের সবারই জানা আছে। কিন্তু কার্যকর হয় কম।
কিছুদিন আগে “আমাদের স্বপ্নের পুলিশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন- রাজনীতিবিদ ভালো হলেই দেশ ভালো হয়ে যাবে, পুলিশও ভালো হবে। সুতরাং স্বপ্নের পুলিশ পেতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সৎ ও যোগ্য অফিসার। কারণ, পুলিশ বাহিনীতে নিজেদের যোগ্যতা ও সুনাম ধরে রাখতে হলে বদলাতে হবে জনগণ ও নিজেদের মনমানসিকতা।
এভাবেই পুলিশের ওপর আস্থা রাখবে জনগণ ,স্যালুট দেবে পুলিশকে। কারো সমালোচনা নয়, আবার কারো তোষামোদও নয়। কেননা তোষামোদকারী শয়তানের আরেক ভাই। সত্য কিছু কথা তুলে ধরার প্রয়াস করেছি মাত্র। আসুন সমাজ বদলাতে হলে পুলিশ বদলে যাই,সাথে আমরা জনগণ ও বদলে যাই।
নাহয় শুধু শুধু তর্ক আর বির্তক করে লাভ নেই। কে জানি বলে সব পাখি মাছ খায়, তারপরেও সব দোষ মাছরাঙ্গা পাখির। সত্যিই কি তাই!!!
জে,জাহেদ সাংবাদিক ও লেখক:

zahednews@gmail.com

Top