আপডেটঃ
চট্টগ্রামে নেবুলাইজার ও ভেজিটেবল কাটার মেশিনে ২ কেজি স্বর্ণ সহ আটক ১সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে নিয়োগডিমেরিট পয়েন্টের সাথে জরিমানাও গুনতে হচ্ছে সাকিবকেতাপসের প্রশংসায় সানি লিওনবিনোদনের এক অনবদ্য আয়োজন-গৌহাটি শিলংশীতকালীন গোসলে ৯ ভুল‘দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন’সব পক্ষের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন কার্যকর হবে নাযশোরের নারাঙ্গালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আ’লীগ কর্মী জখমহঠাৎ শেখ সুজাতের বাসায় রেজা কিবরিয়ামানুষের সাথে কথা বলার দিকনির্দেশনাজাতীয় প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি সাইফুল, সম্পাদক ফরিদাপ্রতিযোগিতা মানে প্রতিহিংসা নয়: সিইসিবর্তমান সরকার ইসলামের সরকারঃ এমপি বদিগণ মানুষের অধিকার আদায় করতে ধানের শীষে ভোট দিন : এড. শামীম আরা স্বপ্না

কর্ণফুলী জুলধায় ভারি যান চলাচলে সড়কের বেহালদশা

Ctg..jpeg

জে,জাহেদ চট্টগ্রাম:

কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই লরি ও ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন স্থান ধসে গিয়ে ঝুঁকিপ‚র্ণ হয়ে পড়েছে। অত্যধিক ওজনের এসব লোহা ও ইস্পাত বহনকারী ট্রাক চলাচল করায় সড়কে তীব্র খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভেতরের পাকা ও কাঁচা সড়কগুলো বেহাল দশায় পৌঁছেছে। এর প্রতিবাদ কিংবা জনপ্রতিনিধিদের মৌখিক অভিযোগ করেও স্থানীয় জনগণ প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ স‚ত্রে জানা যায়, প্রতিনিয়ত ইউনিয়নটির পিএবি সড়ক হতে দিনের বেলাতে লোহা ও ইস্পাত বোঝাই ১০/১২টি লরি ট্রাক ফকিরনীরহাট রাস্তার মাথা থেকে জামতলা বাজার হয়ে। পরে মাতব্বরপাড়া পাইপের গোড়া বাজারের গ্রামীণ সড়ক ভেঙ্গে,ডাঙ্গারচর সুপার পেট্টো কেমিক্যাল এর পিছনে পারটেক্স পেট্টো সুপার কোম্পানীতে গিয়ে মালামাল আনলোড করছে।

ফলে ফকিরনীরহাট হতে ফ্যাক্টরি পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের এখন বেহাল অবস্থা। সড়কের অধিকাংশ স্থানজুড়ে খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনার পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এমনকি স্থানীয়দের পক্ষে এসব ভারি লরি চলাচল বন্ধের দাবিতে ভ‚মিপ্রতিমন্ত্রীর নিকট শাহমিরপুরের ইলিয়াছ মেম্বার অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।

এরপরেও দিনে রাতে কিছুদিন পরপর এসব লরি শহরের ট্রাফিক পাশ কাটিয়ে কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরন্নির হাট রাস্তার মাথায় অপেক্ষামান থাকে। পরে সুকৌশলে গ্রামীণ সড়ক হয়ে ফ্যাক্টরি ও ইটভাটায় যাতায়াত করছে।

তথ্যমতে,সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিধি মতে ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ১০ টন ওজনের বেশি ভারি যান চলাচল নিষিদ্ধ হলেও, এসব ৬০/৭০টন ভার বহনকারী লরি এবং ট্রাক অনবরত চলাচল করায় সরু সড়কটির অবস্থা এখন শোচনীয়। অনেক স্থান ধসে ও দেবে গেছে। অথচ কতৃপক্ষ ,ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীর ট্রাক চলাচলে এসব সড়ক ভেঙ্গে যাচ্ছে তা দেখেও দেখছেনা। অভিযোগ করার পরও, এভাবে ট্রাক চলাচল অব্যাহত থাকায় জুলধা ইউনিয়নে জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমনকি গত ৯ই মার্চ ১৮ইং এসব ৬০/৭০টন ওজনের মালবাহী গাড়ী গুলো প্রবেশ করতে নিষেধ করলে জনপ্রতিনিধির সাথেও মৃদৃ বাকবিতÐা হয় বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে জুলধা ইউনিয়নের মোঃ নুরুল হক চৌধুরী জানান, আর্থিক বিনিময় কিংবা যোগসাজেসে গাড়ীগুলো নাকি জুলধা সড়কে চলাচল করাচ্ছে অনেকে।

স্থানীয় আব্দুল গফুর এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, “সরু সড়কটি দিয়ে বেপরোয়াভাবে অনবরত বড় ট্রাক ও মাল বোঝাই লরি চলাচলে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অচিরেই সড়কে গাড়ি চলাচলের উপযোগী থাকবেনা”।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুই পাশের বহু জায়গা ধসে ও দেবে গেছে। পাশাপাশি দু’টি ট্রাক চলার সময় পাশে জায়গা না থাকায় খালে এমনকি রাস্তার পাশে তাদের বাড়িঘরের ওপর ট্রাক উল্টে পড়ার উপক্রম হয়।

স্থানীয় আবদুস ছাত্তার বলেন, এ সড়কটি সর্বোচ্চ পাঁচ-৬ টন ওজনের গাড়ি চলাচল করার উপযোগী। কিন্তু সড়কটি দিয়ে অত্যধিক ওজনের বন্দরের লরি ট্রাক চলাচল করায় সড়কটি ধসে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জুলধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির আহমদ বলেন, ভারি ওজনের লোহার প্লেট ভর্তি গাড়ি প্রবেশ করাতে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নিষেধ করার পরও ওরা বিষয়টিতে কোন কর্ণপাত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের ওজন নীতিমালা ২০১২ অনুযায়ী সিঙ্গেল এক্সেল রোডে সাড়ে ১০/১২ টন ওজনের বেশি ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কর্ণফুলী জুলধায় আল সিরাজ এন্ড কোম্পানির গাড়িগুলো ৬০/৭০টন ওজনের মালামাল পরিবহন করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

যে কারণে জুলধা ইউনিয়নের রাস্তাটি এখন বিশাল খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কটির পানি নিষ্কাশন-ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপ‚র্ণ হয়ে উঠেছে। হালকা যানবাহনের পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ভারী যানবাহন।

এক লরিচালকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,সড়ক নির্দেশনা তারা জানেন না। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ কোথাও তাকে বাধা দেয়নি বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট স‚ত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর পুর্বে জুলধার গ্রামীণ সড়কগুলো হালকা ও মাঝারি ওজনের যানবাহনের জন্য নির্মাণ করা হয়। চালু হওয়ার পর থেকে সড়কটিতে ভারী ট্রাক,ইটভাটার গাড়ি, কাভার্ডভ্যান, লরি, ফুয়েল ট্যাংকারসহ ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করে। ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে বিভিন্ন স্থানে সতর্কতাম‚লক সাইনবোর্ড লাগালেও উধাও এখন। এরপরও সড়কটিতে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, গর্ত সৃষ্টি হয়ে ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছে। স¤প্রতি এসব ভারি লরি চলাচলের কারণে সড়কটিতে যান চলাচল ঝুঁকিপ‚র্ণ হয়ে উঠেছে। এতে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী ও রোগি চলাচলে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। ফলে স্থানীয় সাংসদ ও কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় জনগণ।

এমনকি লরি চলাচলে শাহমিরপুরের আলম মাঝির ৬ফুট ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ভরাটের খবর ও এসেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জানান, ১০/১৫ দিন পর পর গভীর রাতে এসব লরিতে মালামাল পরিবহন করে। কিছুদিন আগে ডাঙ্গারচর মাতব্বরঘাট এলাকার রাজনের বসতিবাড়ির পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিও ভেঙ্গে ফেলে।

এসব গাড়ি কোথায় যাচ্ছে এমন প্রশ্নে জানান, জুলধা ডাঙ্গারচর এলাকার পারটেক্স সুপার পেট্রো কেমিক্যাল কোম্পানীতে তেল সংরক্ষণের বড় টাংকি তৈরিতে এসব লোহা ও ইস্পাতের ব্যবহার করছে।

কর্ণফুলী ট্রাফিক জোনের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কখন, কোন রুটে ভারী যানবাহন সড়ক দিয়ে যাচ্ছে,খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে জুলধার চেয়ারম্যান রফিক আহমদ জানান,ভারি যান চলাচলের বিষয়ে অনেকে জানিয়েছেন কিন্তু নিষেধ করলেও কোম্পানী গুলো মানছেনা অগোচরে রাতে চলাচল করছে।

সুপার পেট্রো কেমিক্যাল লিমিটেড কোম্পানির এডমিন আমিনুল ইসলাম জানান,তাদের গাড়ি নাকি এখন আসেনা। ওনার মতে এসব গাড়ি পারটেক্স কোম্পানীর। পিকের কোন লরি আসেনা।

এ ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী জানান,ওই সড়ক দিয়ে ভারি ট্রাক,লরি চলাচল করে কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

Top