আপডেটঃ
কক্সবাজারের  হাফেজ ইয়াসিন আরাফাত সংবর্ধিতরোহিঙ্গারা আগের মতোই নৃশংসতার ঝুঁকিতে : ইউরোপীয় পার্লামেন্টউখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন এর ঔষুধ বিতরণ:স্বার্থপর নিষ্ঠুর সমাজের উৎপাদন ধর্ষকউন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হোন- সাফিয়া খাতুনঅনার্স ৪র্থ বর্ষের ফল প্রকাশসোমবারই চালু হচ্ছে ফোর-জিসমুদ্র সৈকতের বীচ কর্মী শহিদুল্লা রানার চাদাঁবাজিতে অতিষ্ঠ সাধারন হকাররা।নেগেটিভ চরিত্রেও বাজিমাত করেছেন এই নায়করা!নতুন আইনে সৌদিতে বেকার হবেন কয়েক লাখ শ্রমিকশ্রীলঙ্কার সিরিজ জয়, না টাইগারদের ঘুরে দাঁড়ানো?বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপিসাতকানিয়ায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কাশার্শায় ধর্মসভায় উস্কানিমুলক বক্তব্য দেয়ায় মাওলানা আল গালিব গ্রেফতারকারাবন্দিদের মাঝে আইনগত সহায়তা বৃদ্ধি বিষয়ক সভা

কেমন ছিল গান্ধীর জীবনের শেষ দিনগুলো..

289552_136.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্স

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন ভারতের অন্যতম প্রধান একজন রাজনীতিবিদ, দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন। স্বাধীনতার পর ভারত তাকে জাতির জনকের মর্যাদা দেয়।

সময় ১৯৪৮ সাল। ৩০ জানুয়ারি। ভারত ভাগের প্রায় দেড় বছর পরেই দিল্লির বিরলা হাউজে হত্যা করা হয় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে, বেশিরভাগ মানুষ যাকে চেনেন মহাত্মা গান্ধী নামে।

আজ মঙ্গলবার গান্ধী হত্যার ৭০ বছর পূর্তি হচ্ছে।

সারা ভারত ঘুরে বেড়ানো মোহনদাস গান্ধী কেন শেষ সময়ে দিল্লির বিরলা হাউসে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং কেমন ছিল তার সেই শেষ দিনগুলো তা অনেকের কাছেই অজানা।

বিরলা হাউজ দিল্লির সুপরিচিত ব্যবসায়ী ঘনশ্যাম দাস বিরলার একটি বড় বাড়ি বা ম্যানশন। তিনি নিজেও গান্ধীর অনুসারী ছিলেন।

১৯৪৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শেষবারের মত গান্ধী দিল্লিতে আসেন। এর আগে যখনই তিনি দিল্লি এসেছেন, প্রত্যেকবার তিনি ‘ভাঙ্গি কলোনি’ নামের এক জায়গায় থাকতেন।

কিন্তু শেষবার যখন তিনি দিল্লি আসেন, তখন শহরের বিভিন্ন জায়গায় শরণার্থীরা অবস্থান করছিল। তাই তিনি অবস্থান নেন বিরলা হাউজে।

কেন দিল্লিতে থাকার সিদ্ধান্ত?

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী দিল্লি আসেন কোলকাতা থেকে। সে সময় হিন্দু আর মুসলমানদের মধ্যে অশান্তি চলছিল – সেটা থামিয়ে তিনি দিল্লিতে আসেন।

কিন্তু দিল্লিতে এসে দেখলেন এখানে মুসলমানদের উপর হামলা হচ্ছে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন দিল্লিতে তিনি থেকে যাবেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক অপূর্বানন্দ বলছিলেন, “কলকাতায় তিনি যেটা করেছিলেন অর্থাৎ হিন্দু আর মুসলমানের মধ্যে মিল করেছিলেন, সেটা দিল্লিতেও করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া শিখ এবং হিন্দুদের তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন মুসলমানদের উপর যেন হামলা না করে।”

সরকারের পক্ষ থেকেও বিরলা হাউজে থাকার কথা বলা হয় তাকে। সেখানে তার অফিস ছিল, রাজনৈতিক সমস্ত বৈঠকও সেখানে অনুষ্ঠিত হত। রাজনীতিবিদরা ছাড়াও অনেক সাধারণ মানুষ আসতেন তার সাথে দেখা করতে, বিভিন্ন অভিযোগ-অনুযোগ নিয়ে।

স্বাধীনতার পরপরেই ছিল সময়টা। তাই গান্ধী মনে করেছিলেন বিরলা হাউজ থেকে সরকারের সাথে যোগাযোগ করাটা যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রয়োজনে যে কেউ তার কাছে সহজে আসতে পারবেন।

অধ্যাপক অপূর্বানন্দ বলছিলেন, “বিরলা হাউস থেকে বলা চলে তিনি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সচিব এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সাথে প্রতিদিন বৈঠক করতেন। যেখানে ত্রাণ পাঠানো দরকার সেটা তিনি তাদের বলতেন। কোন স্থান থেকে বেশি অভিযোগ আসছে – সেটা কীভাবে সামলানো যায় – সেটা নিয়ে আলোচনা করতেন।”

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান এবং ভারত নামে দুটি দেশ সৃষ্টির পর অনেক রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সামাজিক ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছিল।

উত্তেজনা বিরাজ করছিল ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। জওহারলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মৃদুলা মুখার্জী বলেন, বিরলা হাউজে থাকার সময়টা মোটেও শান্তিপূর্ণ ছিল না গান্ধীর জন্য।

“চারদিক থেকে দাঙ্গার খবর গান্ধীজি নিজেও পাচ্ছিলেন,” বলছিলেন মৃদুলা মুখার্জী। “কিন্তু তার উপর হামলা হতে পারে এই আশঙ্কা করে কখনো তিনি কোনো নিরাপত্তা রক্ষী রাখতেন না।”

অনশন

বিরলা হাউজে গান্ধীকে পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন ব্রিজ কৃষ্ণা চান্দিওয়ালা, মানু এবং আভা নামে তার কয়েকজন আত্মীয়।

তিনি নিজে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ক্যাম্পে সশরীরে যেতেন পরিস্থিতি দেখতে।

মূলত ভারত সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তিনি এ সময় সাহায্য করেছেন।

তবে মুসলমানদের উপর হামলা যখন একেবারেই থামছিল না, তখন তিনি জানুয়ারির ১৩ তারিখে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশন করার ঘোষণা দেন।

১৮ জানুয়ারি বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বিরলা হাউজে এসে তাকে আশ্বস্ত করেন যে মুসলমানদের উপর আর হামলা হবে না।

তাদের কথা বিশ্বাস করে তিনি ১৯ তারিখে অনশন ভঙ্গ করেন। কিন্তু এর দুই দিন পরেই বিরলা হাউজে এক বোমা হামলা হয়।

হত্যা

তবে তখন মোহনদাস গান্ধীর কোনো ক্ষতি হয়নি। এর আগেও কয়েকবার তার ওপর হামলা করা হয়েছিল।

কিন্তু গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের ৩০ জানুয়ারির লক্ষ্য ছিল নির্ভুল।

সকাল ও সন্ধ্যায় প্রার্থনা সভা করতেন তিনি। সেখানে সব ধর্মের কথা বলা হতো, প্রতিদিন অংশ নিতেন কয়েক শ’ মানুষ।

সেদিন সন্ধ্যার প্রার্থনা সভার জন্য গান্ধী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই নাথুরাম গডসে খুব কাছ থেকে পিস্তলের তিনটি গুলি ছোড়েন তার বুক লক্ষ্য করে।

ইতিহাসবিদ সোহেল হাশমী বলছিলেন, গুলি ছোড়ার আগে গডসে গান্ধীর দিকে ঝুঁকে প্রণাম করেন।

স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে মৃত্যু হয় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর। হাশমী বলেন, গুলির পরে তাকে ঘরে নিয়ে আসা হলেও ধারণা করা হয় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

গান্ধী হত্যার দায়ে গডসেকে ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছিল।

দিল্লির লালকেল্লায় গান্ধী হত্যা মামলার বিচার চলার সময়ে নাথুরাম গডসে নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে তিনি দেশভাগের জন্য গান্ধীকেই দায়ী বলে মনে করতেন।

“গান্ধীজী দেশের জন্য যা করেছেন, আমি তাকে সম্মান করি। গুলি চালানোর আগে তাই আমি মাথা নীচু করে তাকে প্রণামও করেছিলাম,” আদালতে বলেছিলেন নাথুরাম গডসে।

তার এক সহযোগী নারায়ন আপ্তেরও ফাঁসি হয়েছিল একইসাথে।

 

Top