আপডেটঃ
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে পাহাড় ধ্বসে ৫ জনের মৃত্যু : ১ জন কে জীবিত উদ্ধারঅভিভাবকহীন মারুফা কর্ণফুলী থানায়রোহিঙ্গা শিশুদের সাথে সময় কাটালেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কাতাসফিয়া হত্যায় ৩য় পক্ষের ইন্দন খতিয়ে দেখার দাবি বাবারকক্সবাজারে প্রিয়াঙ্কা, বিকেলে যাবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পেচৌফলদন্ডীর সন্তান হিসাবে ইয়াবা নির্মুলে দু একটা কথা আমাকে বলতে হবেব্যবসায়ী সেলিমের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধননকল ও ভেজাল প্রতিরোধে ঈদগাও বাজারে অভিযানরোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে বাংলাদেশে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ানামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন”প্রধানমন্ত্রীর ‘নির্বাচিত ১০০ ভাষণ’ সব সরকারি দফতরে রাখার নির্দেশএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছেঈদগড়ে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ ১ ব্যবসায়ী আটকরামু ক্রসিং হাইওয়ে থানা পুলিশের পৃথক অভিযান ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক চারমৃত্যুর আগে স্টিব জবস হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবন সম্পর্কে যা বললেন

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের ছয় দফা পূরণ করতে হবে

Screenshot_2018-01-19-22-59-43-1.png

মোঃনেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার।
ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে কক্সবাজারের কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নেতায় রোহিঙ্গারা।

জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে মিয়ানমারে তাদের ফেরত না পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ইয়াংগি লি শিগগিরই রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করবেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে গত ১৫ জানুয়ারি। চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে দেড় হাজার রোহিঙ্গা ফিরে যাবে দেশটিতে।

চুক্তি শেষে ১৭ ডিসেম্বর দেশ ফিরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানিয়েছেন, দুই মাস এই ব্যবস্থায় চলবে। এর পর ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়বে। আগামী দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে যে আলোচনা করেছে তাতে গুরুত্ব পেয়েছে এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়টিও। নিজ দেশে তারা নিরাপদে থাকতে না পারলে আবারও তারা বাংলাদেশের দিকে ফিরবে বলেও আশঙ্কা আছে ঢাকার।

পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে মিয়ানমার।

তবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা এই সমঝোতার বিষয়ে সন্দিহান। তারা নাগরিকত্বের অধিকার, ভূমি ফিরে পাওয়া এবং হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের বিচারসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্মারকলিপি তৈরি করছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার। এই স্মারকলিপি তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে ধরবেন।

এসব দাবির মধ্যে আছে:
এক. আরকানে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। ‘সেফ জোন তথা নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
দুই. মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আগে আরাকানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণ অফিস খুলতে হবে।
তিন. প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে হবে।
চার. রোহিঙ্গাদের উপর আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি-আরসা’র তাকমা লাগানো যাবে না।
পাঁচ. প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এবং,
ছয়. রোহিঙ্গাদের উপর যে গণহত্যা চালানো হয়েছে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে।
বিক্ষোভকারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানাচ্ছে।

বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয় ১৯৮২ সালে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে ওই বছর তাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার।

তবে সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে গত বছরের শেষে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এদের ছয় লাখেরও বেশি স্থান পেয়েছে কক্সবাজারের কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে।

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টি এবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ তুলে ধরেছে বেশ জোরালভাবে। সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তাদেরকে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চান।

এর মধ্যে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দেশটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয় বাংলাদেশের। আর রোহিঙ্গারা কোন প্রক্রিয়ায় ফিরবে সেটি নির্ধারণে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন হয় গত ১৯ ডিসেম্বর।

আর নেপিডোতে এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক হয় ১৫ জানুয়ারি। ১৩ ঘণ্টার বৈঠকেও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হয়নি। পরদিন সকালে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সই হয়।

এই চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জীবন-জীবিকার বিষয় নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এতে রাজি করানো যায়নি মিয়ানমারকে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা না গেলেও রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রসের সাহায্য নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। এমনকি রোহিঙ্গা প্রর্ত্যাবাসনে সব ব্যয় মিয়ানমার সরকার বহন করবে।

ফিজিকাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চুক্তি অনুযায়ী কবে থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে মিয়ানমারের মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব উ মিন্ট থু বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রত্যাবাসন শুরু হবে ২৩ জানুয়ারি।

Top