আপডেটঃ
হাইকোর্টে জামিন পেলেন চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমইতালিতে ব্যস্ততম সেতু ধসে বহু হতাহতের শঙ্কাঘরেই তৈরি করুন রঙিন স্যান্ডউইচনির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি : কাদেরঅবশেষে জুটি বাঁধছেন দীপিকা-সালমানকক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা৩১ জনের দলেও জায়গা হলো না নাসির-তাসকিনেররাতে আসছে গোলাম সারওয়ারের মরদেহঢাবিতে ভর্তি আবেদনের সময় দুই দিন বাড়লোচট্টগ্রামে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে আসামির পলায়নশার্শার নাভারনে বই সামনে রেখেই হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল পরীক্ষা প্রদানের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তোলপাড় : তদন্ত কমিটি গঠনযশোরের নাভারনে এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারযশোরের নওয়াপাড়ায় ডক্টরস্ ক্লিনিকে রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাইরাজারকুলের সাবেক মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা বিন্টু মোহন বড়ুয়া পরকালে – এমপি কমলসহ বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশচট্টগ্রামে আসল দুদকের হাতে নকল দুদক কর্মকর্তা গ্রেফতার

প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষার দৈন্যদশা

Question.jpg

আহমদ রফিক

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। নতুন শিক্ষামন্ত্রীকে সামনে রেখে বেশ কিছু ইতিবাচক মন্তব্য শোনা গেছে এবং পড়া গেছে মাঝেমধ্যে সংবাদপত্রের পাতায়। অনেকে ভাবতে থাকেন শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের কর্তৃপক্ষ নিয়ে রচিত ভুবনটি বিশেষ অর্জনে প্রশংসার দাবিদার হবে। কিন্তু অবস্থার নেতিবাচক পরিবর্তন শুরু হতেই সেসব প্রত্যাশা ভেঙেচুরে খান খান। যেমন কোচিং বাণিজ্য নিয়ে দীর্ঘকালীন সমালোচনা সত্ত্বেও এই কিছুদিন আগ পর্যন্তও তা বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর নেতিবাচক ফাঁক ফোকরগুলো বন্ধ করার ক্ষেত্রে সচেতনতা দেখা যায়নি, সাফল্য তো পরের কথা। এর মধ্যেই হয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে অসততার ভূত, যা নানারূপে প্রকাশ পেতে পারে। মনে হয় এবং তা প্রকাশ পেয়েছেও। যেমন শিক্ষার মান নিয়ে খোদ শিক্ষাবিদদেরই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, চিন্তা-ভাবনা ও লেখালেখি, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদি। তাদের কারো কারো অভিমত, শিক্ষকের মেধা, যোগ্যতা ও মান নিয়ে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান নিয়ে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকের দায় প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। আমরা একবার লিখেছিলাম, যা সবারই জানা কিন্তু প্রয়োগে সচেতনতার অভাব, আর তা হলো উত্তম মানের শিক্ষার্থী পেতে হলে উত্তম শিক্ষক চাই। সেখানে ঘাটতি শিক্ষা ভুবনের জন্য বিপজ্জনক। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এদিক থেকে সমস্যা অপেক্ষাকৃত বেশি। কারণ অনেক। আর সেই ছিদ্রপথে উত্তম মানের প্রাথমিক শিক্ষকের সংখ্যাগত ঘাটতি। অবশ্য এর অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে শিক্ষাঙ্গনে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা মনে করেন। সেদিক থেকে কিছুটা হলেও দৈন্যদশা প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ও শিক্ষকের। জীবন-জীবিকার মান প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে ছাড় দেওয়া খুবই কঠিন।
এ ছাড়া পরিবেশ-পরিস্থিতির মতো অনেক কিছুই সেখানে কালো ছায়া ফেলে রেখেছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন-ভাতা, আয় ইত্যাদি বিষয়। স্বভাবতই সেখানে মেধার প্রবেশ কম। অথচ শিক্ষার ক্ষেত্রে, একজন সুনাগরিক হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রটি যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিশুর কাঁচা মনের মাটিতে এ সময় শিক্ষা-সংস্কৃতি-জীবনবোধ ইত্যাদি যা ছাপ ফেলে, তা ভবিষ্যৎ জীবনের উচ্চশিক্ষা পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই শিক্ষিত হলেই যে যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠা যাবে, এমন তত্ত্বও সব ক্ষেত্রে খাটে না। তাই আমাদের বিশ্বাস, পারিবারিক সুশিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা পর্বে অ্যাকাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি মনে করার ক্ষেত্রে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নেই। আমাদের দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাব্যবস্থায় একদিককার ঘাটতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি সচেতন বলে মনে হয় না। হলে এদিকে শিক্ষার মান যেমন ঘাটতি থাকত না, তেমনি এর নেতিবাচক দিকগুলোর এতটা বাড়বাড়ন্ত ঘটতে পারত না। প্রাথমিক শিক্ষা পর্বে শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার কথা বাদই দিচ্ছি। কেননা এর কারণ বহুমাত্রিক ও এর ফলে সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতির মতো বহু বিষয় জড়িত। সেদিকটা বাদ দিয়েই দেখা যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে অনেক ভূতের আছর। (২). কোচিং ব্যাধি তো মহামারির রূপ ধারণ করেছে, সেটা সবাই জানেন। অবস্থাদৃষ্টে কর্তৃপক্ষের সচেতনতা ও চেষ্টা কোচিং এবং কোচিংসংশ্লিষ্ট কর্মকা- বন্ধ করার জন্য। কিন্তু বেশ কয়েক বছর থেকে আরেকটি নয়া উপদ্রব অধিকতর তাৎপর্য নিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে দেখা গেছে এবং এখনো দেখা যাচ্ছে, তার কী হবে? সেটা হলো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস। এবং সেটা বহুস্তরে দৃশ্যমান। এটা যে কতটা মারাত্মক দুর্নীতির তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ তা সবাই বোঝেন, ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। উল্লেখ্য, এর সর্বনাশা পরিণাম সুশিক্ষার মান পতনে, মেধা ও মেধাবীর সংখ্যাক্রমে, সর্বোপরি দুর্নীতির সর্বমাত্রিক বিস্তারে। ভর্তি পরীক্ষা, ক্লাস পরীক্ষা, উচ্চস্তরের পরীক্ষা সর্বত্রই প্রশ্ন ফাঁসের ভূত ক্রমবর্ধমান হারে দেখা দিচ্ছে। অতীতের দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ভুবনের সুনাম নানা ধারায় হ্রাস পেতে শুরু করেছে। আজকের প্রবীণ শিক্ষিতজন তাঁদের অতীত অর্থাৎ শিক্ষার্থী জীবনের দিকে ফিরে তাকালে উজ্জ্বল বৃত্তটিই স্মরণ করতে পারবেন। দুর্নীতির কালো ভূত সেখানে ছায়া ফেলতে দেখা যায়নি। তাই ভাবনা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নতির যে ধারা নিয়মমাফিক চলে সেখানে এতটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে কেন?
সে প্রশ্নের ব্যাখ্যা বিচারের আগে দেখা যাক উল্লিখিত বিষয়টির অবস্থা কেমন ও কেন? আগেই বলেছি, বেশ কিছুকাল থেকেই শিক্ষার নানাস্তরে একেক করে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ পেতে শুরু করে। কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছিল ঘটনার পুনরাবৃত্তি, এক স্তর থেকে আরেক স্তরে এর বিস্তার। এমনকি বিস্তার কারিগরি শিক্ষার খাতেও। আমাদের শিক্ষাজীবনে, এমনকি পরবর্তী কয়েক দশকেও শুনিনি চিকিৎসা শিক্ষায়তনে ভর্তি পরীক্ষায় বা অন্য পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কথা কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এ বিষয়ে দুর্নীতির কথা। তাহলে হঠাৎ এমন কী ঘটল যে শিক্ষার স্তরে স্তরে প্রশ্ন ফাঁস ঘটেই চলেছে। রাজধানী থেকে জেলা শহরে, এমনকি আরো প্রান্তিক ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের হিড়িক। (তিন). অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল সংবাদ শিরোনামটি পড়ে (১৭.১২.২০১৭): ‘প্রশ্ন ফাঁস দ্বিতীয় শ্রেণিতেও!’ পাঠক, ভেবে দেখুন শিক্ষাঙ্গনের দুর্নীতি বাস্তবে কোথায়, কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। শিশু স্তরের শিক্ষা ক্ষেত্রটিও দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারছে না। উল্লিখিত শিরোনামের মূল বিষয়টি সত্যি ভয়াবহ। ওই সংবাদভাষ্যের সংক্ষিপ্ত বয়ানে বলা হয়েছে: ‘বরগুনার বেতাগীতে ১৪০ স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত। ভালো শিক্ষকরা ক্লাসে কম পড়ান, প্রশ্ন ফাঁস তারাই করেন’। শেষোক্ত অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর কণ্ঠে এ ধরনের অভিযোগ শোনা গেছে। কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। বরং থেকে থেকে এর বংশবিস্তার ঘটেছে নানা স্তরে। প্রশ্ন ফাঁসসহ শিক্ষাঙ্গনের নানামুখী দুর্নীতি বন্ধ না হওয়ার বড় কারণ। এতে দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের দুঃসাহসী উপস্থিতি। রাজনীতি এর পেছনে কতটা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি যে বন্ধ হচ্ছে না তা তো দেখাই যাচ্ছে। সমাজ-রাজনীতিতে বিরাজমান দুর্নীতির প্রভাব শিক্ষক সমাজেও ঢুকবে, এটাই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ পড়তে পড়তে ভেবেছি, শিক্ষাঙ্গন কি অভিভাবকহীন, অর্থাৎ সৎ অভিভাবকহীন যে দুর্নীতির ঘটনা বন্ধ হওয়া দূরে থাক, এর বিস্তার ঘটে চলেছে অব্যাহত ধারায়। আগের সংবাদটির বিবরণে বলা হয়েছে: ‘এই অসৎ কাজটির সঙ্গে জড়িত থাকছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক ও তাদের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার, ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পরিচালিত কোচিং সেন্টার, ছাপাখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।’ এতে আরো বলা হয়েছে: ‘ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেশনের কাছে একধরনের পরাজয় ঘটেছে কর্তৃপক্ষ, সরকার ও রাষ্ট্রের।’ ঘুরেফিরে আবারও সেই কোচিং ভূত, যে কথা প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে শুরুতেই উল্লেখ করেছি সংগত কারণে। এদের দুর্নীতি বন্ধ করবে কে? একই সঙ্গে সিন্ডিকেট ভূতও বিবেচ্য। এর আগে আমরা দেখেছি, প্রাত্যহিক দ্রব্যমূল্যের হঠাৎ হঠাৎ আকাশছোঁয়া বৃদ্ধিতে সিন্ডিকেটের দূষিত মুনাফাবাজি। চাল নিয়ে, কাঁচা মরিচ নিয়ে, পেঁয়াজ নিয়ে। সম্প্রতি ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজিতে ঝাঁজ ছড়াচ্ছে। মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারের নাভিশ্বাস অবস্থা। কারণ চাল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ না হলে রান্নাঘর অচল। তাই যত কষ্ট হোক এগুলো কিনতেই হবে। এত গুরুত্বপূর্ণ প্রাত্যহিক প্রয়োজনের উপকরণ নিয়ে এমন ভয়াবহ মুনাফাবাজি সত্ত্বেও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোকামে চালের গুদামে চালের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার চাল আমদানিতে মুক্তহস্ত। তা সত্ত্বেও চালের দাম স্বাভাবিক পূর্ব দামে কিছুতেই পৌঁছছে না। কমছে না চালের দাম। একই অবস্থা বিরাজ করছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের ক্ষেত্রে। (চার). শিক্ষা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসবিষয়ক দুর্নীতি প্রসঙ্গে চাল ও পেঁয়াজের কথা কারো কাছে অবান্তর মনে হতে পারে। কিন্তু না। এসব একসূত্রে বাঁধা। সমাজে দুর্নীতি-দূষণ, মূল্যবোধের অভাব এ সব কিছুর প্রভাব প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন খাতে। কিছুদিন আগে দেখা গেছে, ওষুধে ভেজাল, খাদ্যে ভেজাল বিষয়ক ঘটনার প্রকাশ সংবাদপত্রে। কী ভাবছেন পাঠক? ঘটনাগুলো কি বিচ্ছিন্ন কিছু?
এ বিষয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনায় না গিয়ে সর্বনাশ রোধের বিষয়ে দু-চারটি কথা বলে আলোচনা শেষ করাই ভালো। কারণ উদাহরণ বেশি টানতে গেলে পুনরাবৃত্তিতে বিষয়টি মহাভারতের চরিত্র অর্জন করবে। তাই সংলাপে বলতে হয়, শিক্ষাঙ্গনের এসব দুর্নীতি বন্ধ করা অসম্ভব নয়। দরকার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষাবিদের লেখাও প্রকাশ পেয়েছে সংবাদপত্রের কলামে। তাঁদের মতো বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিচার ও ব্যবস্থা নির্দেশে না গিয়ে একটি কথা বলব, এ ব্যাপারে সাফল্যের জন্য দরকার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক সমর্থন এবং পৃষ্ঠপোষকতা। তবে কোচিং সেন্টার সম্পর্কে আমার পুরনো বক্তব্যই উদ্ধৃত করি। অবিলম্বে কোচিং ব্যবসা কঠোর সিদ্ধান্তে বন্ধ করা দরকার। লেখকরা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, কোচিং সেন্টারগুলোই দুর্নীতির আখড়া। সংবাদপত্রের খবর ও ভাষ্য এ বিষয়ে ভিন্ন নয়। তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ এ পরিস্থিতি একটি সুশিক্ষিত, প্রকৃত শিক্ষিত জাতি গঠনের পরিপন্থী। এতে মেধার বিকাশও ব্যাহত হতে বাধ্য। কারণ ফাঁস প্রশ্নের সুরাহা যেখানে পরীক্ষায় উচ্চমাত্রার সাফল্য অর্জন সম্ভব, সেখানে কী দরকার শ্রমনিষ্ঠার? গোটা শিক্ষিত সমাজ সে ক্ষেত্রে নিম্নমান শিক্ষা নিয়েই উচ্চপদে আসীন হতে পারবে। এতে যে মননশীলতায় বিপর্যয় ঘটবে তা-ই নয়, চিকিৎসা খাতেও পড়বে এর বিরূপ প্রভাব। সুচিকিৎসা ও জীবনরক্ষা, স্বাস্থ্য রক্ষার লক্ষ্যটি হবে ব্যাহত। কাজেই দরকার অবিলম্বে কঠোর হাতে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাঙ্গনের এ দৈন্যদশার অবসান ঘটানো। তবে সেই সঙ্গে সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দূষণ ও দুর্নীতি বড় সংক্রামক চরিত্রের। রাজনীতি সম্পর্কেও একই কথা খাটে। শুদ্ধ সুশাসনই পারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে বা দূষিত সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে।

Top