এবারও শেষ ওভারে জয় মাশরাফিদের

BPL-Rangpur.jpg

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ আগের দুই ম্যাচের জয়ের নায়ক থিসারা পেরেরা নেই। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ফিরে গেছেন লঙ্কায়। তাই শুরুতেই বড় ধাক্কা রংপুরের জন্য। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি হয় আগের দুই ম্যাচের মতোই। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ফিরতি পর্বের ম্যাচেও জয়টি আসে রোমাঞ্চকর। টানা তিন ম্যাচে তাদের জয়টি আসে শেষ ওভারে। এদিন ম্যাচের শেষের নায়ক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শেষ দিকে তার হাঁকানো দুই ছক্কাতেই জয়ের ধারা ধরে রাখে দলটি। ফলে সিলেট সিক্সার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে মাশরাফির রংপুর রাইডার্স।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শুরুতে টানা তিন ম্যাচ জিতে উড়ছিল সিলেট। তবে এর পর আর জয় পায়নি দলটি। এদিনের হারে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত। শেষ চারে যেতে শেষ দুই ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি অন্যদলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে দলটিকে। এ জয়ে শেষ চারের অনেক কাছে চলে এসেছে রংপুর।

১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এদিন ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনে রংপুর। ক্রিস গেইলের সঙ্গে এদিন ওপেন করতে নামেন জিয়াউর রহমান। তবে শুরুতেই দলের অন্যতম প্রধান ভরসাকে হারায় দলটি। সোহেল তানভিরের বলে মিড অনের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে টিম ব্রেসনানের হাতে ধরা পড়েন গেইল।  তবে অপর প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করেন জিয়া। ১৮ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি।

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়ে নাবিল সামাদের বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন জিয়া। তার বিদায়ের পর ম্যাককালামের সঙ্গে যোগ দেন মোহাম্মদ মিঠুন। রানের গতি সচল রেখেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তবে মিঠুনের বিদায়ের পর রানের গতিতে ভাটা পরে দলটির। পরের চার ওভার বাউন্ডারি আসে মাত্র ১টি। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে আউট হন ম্যাককালাম। ৩৮ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। পরের ওভারে রানআউটে কাটা পড়েন সামিউল্লাহ সেনওয়ারিও। ফলে দলীয় ১২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পরে যায় দলটি।

এরপর মাশরাফিকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে নামেন বোপারা। তবে রানআউটে কাটা পড়েন এ ইনিংস ব্যাটসম্যানও। যদিও তানভিরের আগের ওভারে শুভাগত হোমের হাতে দুইবার জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ২৪ বলে ৩৩ রান করেন বোপারা। বোপারার বিদায়ের পর উইকেটে আসেন নাহিদুল। গ্যালির উপর দিয়ে দারুণ এক চার মেরে ইনিংসের সূচনা করেন তিনি। এরপরই শুরু হয় আরও একটি মাশরাফি শো।

শেষ ২ ওভারে তখন প্রয়োজন ২০ রানের। তবে তানভিরের করা প্রথম বলেই দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ কমিয়ে আনেন মাশরাফি। শেষ ওভারেও হাঁকান আরও একটি ছক্কা। ফলে ৩ বলে হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় পায় রংপুর রাইডার্স। ১০ বলে ২ ছক্কায় ১৭ রান করেন মাশরাফি। নাহিদুল করেন ১৪ রান।

এর আগে টস জিতে বোলিংকেই বেছে নিয়েছিলেন রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি। উদ্দেশ্য শুরুতে প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে চাপে ফেলে দেওয়া। বল হাতে ইনিংসের প্রথম বলেই সাফল্য প্রায় এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক। পয়েন্টে আন্দ্রে ফ্লেচার ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। তবে তা লুফে নিতে পারেননি রবি বোপারা। পরের ওভারেই অবশ্য সাফল্য পায় দলটি।

চার ম্যাচ পর এদিন আবার দলে সুযোগ পেয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। সিলেটের পক্ষে প্রথমবারের মতো ওপেন করতে নামা নুরুল হাসান সোহানকে তুলে নেন তিনি। পরের ওভারে আউট করেন অধিনায়ক নাসির হোসেনকেও। তবে অপর প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন আন্দ্রে ফ্লেচার। তাকেও থামান অপু। ফলে ৫৩ রানে প্রথম সারির ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে যায় তারা। ১৭ বলে ২৬ করেন ফ্লেচার।

চতুর্থ উইকেটে পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাবর আজমকে নিয়ে দলের হাল ধরেন দলের আইকন খেলোয়াড় সাব্বির রহমান। গড়েন ৭৪ রানের দারুণ এক জুটি। মূলত এ জুটির উপর ভর করেই বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় দলটি। তবে বাবর আজমের রানআউটে ভাঙ্গে দারুণ এ জুটি। ৩৭ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন বাবর। আর ৩৭ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৪৪ রান করেন সাব্বির।

শেষ দিকে মাত্র ৫ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ রান করেন ব্রেসনান। রস হোয়াইটলি করেন ১১ বলে ১৭ রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩ রান করে সিলেট। রংপুরের পক্ষে ১৮ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন অপু।

Top