নয়নাভিরাম ‘নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট’

Nayaobiram.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ চারদিকে সবুজ আর সবুজ। আম, জাম, নারকেল, কৃষ্ণচূড়াসহ নানা প্রজাতির গাছে ঠাসা চারপাশ। পুকুরভরা টলমলে পানি। রাতে বাঁশবাগানের মাথার ওপর ওঠা চাঁদ। নাম না-জানা পাখির কিচিরমিচির আর বাতাসের শন শন শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যায় না। গ্রামীণ আবহে আরামদায়ক জীবনযাপন। হাঁস সাঁতরানো পুকুরের এক পাশ ধরে সারি সারি ‘ওয়াটার কটেজ’যেন পানিতেই ভেসে আছে। শণ, খেজুরপাতার পাটি আর কাঠের তৈরি এসব ঘরের ভেতর আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। বলছি নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারের কথা।

অভিনয়শিল্পী দম্পতি তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত তৈরি করেছেন এই রিসোর্ট-কাম কনফারেন্স সেন্টার। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকায় ‘নক্ষত্রবাড়ি’নামে আধুনিক এ রিসোর্ট ও কনফারেন্স সেন্টারের অবস্থান।

এখানে ভেতরে ঢুকতেই ডানে রিসেপশন। রিসেপশনের বৈশিষ্ট্য হলো আমাদের চিরাচরিত বাংলা স্থাপত্যপদ্ধতি মান্য হয়েছে এখানে। লাল টালি দিয়ে ছাওয়া চালাঘর। কাঠ-বাঁশ-বেতের ব্যবহার চমৎকার।

 

 

রিসেপশন থেকে বামে তাকালে বিশাল তেতলা বাড়ি। সাদামাটা দেখতে এই বাড়িটা আসলে হোটেল কমপ্লেক্স। মোট আঠারোটি রুম। রুমগুলোয় রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

দুটি বেডরুম, একটা বাচ্চাদের রুম, একটা ড্রয়িং, একটা ডাইনিং আর বারান্দা নিয়ে রয়েছে ফ্যামিলি কটেজন।সামনে বড়সড় একটা লন। ফ্যামিলি কটেজটাও চালার রীতি মেনেই তৈরি। তবে ইট-সিমেন্টের।

উঁচু জায়গাতেই ছোট্ট একটা সুইমিং পুল। এখানে আঁকা আছে সূর্যমুখী। নক্ষত্রবাড়ির সিগনেচার সিম্বল। আশপাশে বাঁশঝাড় আর গাছপালা। চাইলে সুইমিং পুলের পাশে তাঁবুতেও রাত্রিযাপন করার ব্যবস্থা।

রিসোর্টের কনফারেন্স সেন্টারটা যথেষ্ট খোলামেলা। আলো আর বাতাসের অবিরল উপস্থিতি। ছাদ থেকে, দোতলা থেকে ঝুলছে কিছু লতানো গাছ, কংক্রিটকে আড়াল করে চোখে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়ার জন্য। এর নিচতলায় তৈরি করা হয়েছে গ্যালারি। গ্যালারি সানফ্লাওয়ার লাগোয়া একটি রিক্রিয়েশন সেন্টার। এই গ্যালারি চাইলে কনফারেন্স হল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

 

 

কনফারেন্স হলের উল্টো দিকে ওয়াটার বাংলোগুলো। পুকুরের ধারে চমৎকার কাঠের ডক ধরে এগিয়ে যেতে হয়। মোট ৯টি বাংলো রয়েছে এখানে। ৬টি ডিলাক্স কাপল, একটি করে ফ্যামিলি স্যুইট, প্রিমিয়াম স্যুইট ও ফ্যামিলি বাংলো রয়েছে এখানে। প্রতিটি বাংলো তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক স্থাপত্যরীতি মেনে। সব কটির অভ্যন্তর আধুনিক। ডকে বসে মাছ ধরা, নৌভ্রমণ আর আশপাশের গ্রাম ঘুরে আপনার ছুটি পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন।

বাচ্চাদের ছবি আঁকার ব্যবস্থা রয়েছে। তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও আছে। একটা স্টাডি রুম ও ডিভিডি গ্যালারি রয়েছে।

বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল সব ধরনের খাবারের ব্যবস্থাই রয়েছে অতিথিদের জন্য।

ভাড়া: পানির ওপর কটেজগুলো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ১০ হাজার ৭৫২ টাকা। বিল্ডিং কটেজের ভাড়া কাপলবেড ৮ হাজার ২২২ টাকা এবং টু-ইন বেড ৬ হাজার ৯৫৮ টাকা। দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন: নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-কাপাসিয়া মহাসড়কের রাজাবাড়ী বাজারে নামতে হবে। পরে রাজাবাড়ী বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে চিনাশুখানিয়া গ্রামের বাঙালপাড়ায় গেলেই পেয়ে যাবেন তারকা দম্পতির স্বপ্নের নক্ষত্রবাড়ি।

Top