ইরানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭৮

Iran.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্স: ইরান ও ইরাক সীমান্তে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটার শকের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তুপের নিচে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনীসহ উদ্ধারকর্মীরা। সাধারণ মানুষও উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসেছেন।

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, অন্তত আড়াই হাজার মানুষ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। আহতদের চাপে হাসপাতালগুলোয় স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছে দু’দেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত সুলায়মানিয়ায়। গভীরতা ছিল ৩৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার। মূল আঘাতের পর ৪ দশমিক মাত্রার ভূমিকম্পের কথা জানিয়েছে মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।

ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরাক সীমান্তবর্তী কারমানশাহ্‌ প্রদেশে প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে হতাহতদের বেশিরভাগ শারপল ই জাহাব এলাকার বলে প্রদেশের উপ-গভর্নর মোস্তবা নিকারদার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ উদ্যোগের নির্দেশ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীকেও দুর্গত এলাকায় কাজ করতে বলা হয়েছে। ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় কারমানশাহ প্রদেশে ৩ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি টেলিফোনে কারমানশাহ’র গভর্নর হোসহান বাজভান্ডের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে কথা বলেছেন। গভর্নর প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রদেশের পুলিশ প্রধান সাধারণ জনগণকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর অঞ্চলের প্রায় সব সড়ক খুলে দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন স্বাভাবিক।

তবে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে ইরাকের কুর্দিস্তানের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সেখানেও প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইরাকি কর্তৃপক্ষ বলেছে, সুলায়মানিয়াহ্‌ ছাড়াও কুর্দিস্তানের দারবাদিখান শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুর্দিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেকাওয়াত হামা রাশীদ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওই শহরের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ।

অন্যদিকে, তুরস্কের দিয়ারবাকির শহরেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের ফলে ইরাক ও ইরানের অনেক শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর আফ্টার শকের আশঙ্কায় দু’দেশের দুর্গত এলাকার হাজার হাজার মানুষ শীতের মধ্যে রাস্তা কিংবা পার্কে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

ইরাক ও ইরানে ভূমিকম্পের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০০৩ সালে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।

Top