স্বভাবগত যে ১০টি কাজ করা সুন্নাত

Islam-hadith.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্স:  আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলার কাছে মনোনীত জীবন ব্যবস্থা ইসলাম। আল্লাহ তাআলা ইসলামের ধারক ও বাহক করে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্য ও মহাপবিত্র হেদায়েত গ্রন্থ আল-কুরআন দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর জমিনে তাঁর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে সফলতা লাভ করেছেন। অন্ধকার সমাজকে করেছেন আলোকিত।

মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যা তিনি অসম্পূর্ণ রেখে গেছেন। তাইতো আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন তথা জীবন ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।’

এমনকি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নসিহত থেকে বাদ যায়নি মানুষের স্বভাবসিদ্ধ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল। যা মানুষকে প্রতি সপ্তাহে বা মাসে হলেও সম্পন্ন করতে হয়।

মানুষের স্বাভাবিক জীবনের স্বভাবসিদ্ধ কাজগুলোর বর্ণনা ওঠে এসেছে প্রিয়নবির হাদিসে। যা জানা এবং মানা মানুষের জন্য আবশ্যক। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ১০টি কাজ স্বভাবগত-
>> মোচ বা গোঁফ কাটা;
>> (হাত ও পায়ের) নখ কাটা;
>> অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন রাখা;
>> দাড়ি লম্বা করা;
>> (নিয়মিত) মেসওয়াক করা;
>> নাক (পানি দিয়ে) পরিস্কার করা;
>> বগলের (নিচের) পশম উপড়ে ফেলা;
>> নাভির নিচের পশম কামানো;
>> পেশাবের পর পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা এবং শৌচকর্ম করা।
>> মুসআব ইবনে শায়ার বলেন, আমি দশম কথাটি ভুলে গেছি সম্ভবত তা হলো কুলি করা। (নাসাঈ)

উল্লেখিত কাজগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে পাক-পবিত্র ও সুন্দর করে। যা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টি থেকে বাদ যায়নি।

হাদিসের শিক্ষা
>> গোঁফ এতটুকু খাটো করা; যাতে পানি খাওয়ার সময় গোঁফে পানি না লাগে;
>> হাত ও পায়ের নখ অন্তত্ব প্রতি সপ্তাহে কাটা; কারণ হাত দিয়ে মানুষ খাওয়া-দাওয়াসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অনেক কাজ করে থাকে। নখ না কাটলে নখের ভেতরে ময়লা জমে। নখের ভেতরের ময়লা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
>> শরীরের যে সব জায়গায় পানি পৌঁছা সহজ নয় তা ভালোভাবে হাত দ্বারা ঘঁষে-মেঝে পানি পৌছানো আবশ্যক। কারণ শরীরে কোনো অঙ্গে পানি না পৌছলে ফরজ গোসল আদায় হবে না।
>> দাড়ি কমপক্ষে এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা রাখা।
>> নাক পরিষ্কার রাখা।
>> প্রত্যেক নামাজের আগে অজুর সময় মেসওয়াক করার ফজিলত অনেক বেশি। মুখের দুর্গন্ধ থেকে হেফাজত থাকতে খাওয়া-দাওয়া, ওজু ও গোসলের আগে মেসওয়াক করা প্রিয়নবির উত্তম আমল।
>> বগলের নিচের অযাচিত পশম উপড়ে ফেলা।
>> নাভির নিচের পশম ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই পরিষ্কার করা।
>> পেশাব ও সৌচকার্যে ঢিলা-কুলুপ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার দ্বারা উত্তমরূপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা।

উল্লেখিত কাজগুলো মানুষের জন্য ফিতরাত বা স্বভাবগত। যা ইসলাম পূর্ব অন্যান্য শরিয়তের অংশ ছিল। সব নবি-রাসুলগণই এ স্বভাবগত বিষয়গুলোর শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে উল্লেখিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Top