সৌদিতে দুর্নীতি তদন্তে আটক ২০১

saudi.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্স:  সৌদি আরবে গত কয়েক দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। তাই এই আর্থিক দুর্নীতি তদন্তে ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল। আটকৃতদের মধ্যে কয়েক ডজন যুবরাজ, একাধিক মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

 

জেনারেল সৌদ আল মোজেব বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০৮ জনকে ডাকা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৭ জনকে কোনো প্রকার চার্জ ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

 

সৌদি বাদশাহ সালমান সম্প্রতি এক ডিক্রির মাধ্যমে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে নতুন দুর্নীতি দমন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর ১১ জন প্রিন্স, চারজন মন্ত্রী এবং ডজনখানেক সাবেক মন্ত্রীকে আটক করার খবর আসে।

 

শেখ সৌদ আল-মোজেব বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে তদন্তের ভিত্তিতে আমরা ধারণা করছি, কয়েক দশকে ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার অপব্যবহার হয়েছে।’

 

এই তদন্তে কয়েক ডজন প্রিন্স, একাধিক মন্ত্রী ও ধনকুবেরকে আটকের কথা গত সপ্তাহে ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ, যাকে যুবরাজ মোহাম্মদের প্রভাব আরও সুসংহত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই তদন্তে কার্যক্রম প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বিস্তৃত হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯ সৌদির ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য জানাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

 

বিলিয়নেয়ার প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালাল ও ন্যাশনাল গার্ডের সাবেক প্রধান প্রিন্স মেতিব বিন আবদুল্লাহসহ এই ১৯ জনের প্রায় সবাইকে আটক করা হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের ছেলে মেতিবকে এক সময় সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার বলে মনে করা হত। রাজপরিবারে আবদুল্লাহর বংশধরদের মধ্যে কেবল তিনিই সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে ছিলেন।

 

যুবরাজ্যের নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটিকে গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারিরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।

 

জেদ্দায় ২০০৯ সালের বন্যা এবং ২০১২ সালে সৌদি আরবে মের্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে দেশটিতে নতুন করে তদন্ত শুরুর তথ্য দিয়েছে সৌদি টেলিভিশন আল আরাবিয়া।

 

চলতি বছর জুনে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার পর থেকেই বিশ্বে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নানা ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ।- গার্ডিয়ান ও রয়টার্স।

Top