রাজনীতির মাঠে বিএনপির সরব হওয়ার চেষ্টা, শঙ্কিত নয় আ’লীগ

BNP-AL-Logo.jpg
ওয়ান নিউজ ডেক্স:  সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু রাজনীতির মাঠে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। যেকোন ইস্যুতেই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করার ঐতিহ্য দুই দলের কাছে নতুন কিছু নয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপিকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয়নি। খোদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি স্বীকারও করেছিলেন বিভিন্ন সময়। তাদের অভিযোগ ছিল, বিএনপি আন্দোলনের নামে শুধু সহিংসতা আর অরাজকতা সৃষ্টি করে। তবে বিএনপিও নিজেদের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের তাদের কর্মসূচি পালনে কম বাধা দেয়নি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে মাত্র বছর খানেক বাকি। সময় যত কাছে আসছে, নিজেদের গুছিয়ে নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। সবাই কর্মী সংগ্রহ, রাজনৈতিক শো ডাউনসহ একে অপরে বিষোদাগারে ব্যতিব্যস্ত।

ইদানিং ক্ষমতাসীন দলকে দেখা গেছে কর্মী সংগ্রহ করে নিজেদের পাল্লা ভারী করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে। আর বিএনপি গত কিছু দিন আগেই কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে গিয়ে করে ফেলল একপ্রকার শোডাউন। এ ছাড়া সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন তো আছেই। এক্ষেত্রে যদিও ক্ষমতাসীন দল অনেক এগিয়ে।

এদিকে, বাংলাদেশের মূলত প্রধান রাজনৈতিক এ দল দুটি এই মাসেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিজেদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করবে। বিএনপি ১২ তারিখ এবং অনুমতিপ্রাপ্তি সাপেক্ষে আওয়ামী লীগ ১৮ তারিখে সভা করবে। বিএনপির সভা বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে। আর আওয়ামী লীগ সভা করবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায়।

ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগ কোন ক্ষেত্রেই চিন্তিত নয়। সভা, সমাবেশ পালন করার অনুমতি পুলিশ দেয়, সরকার না। তবে কর্মসূচি অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হলে সরকারের তরফ থেকে ভবিষ্যতেও সহায়তা করা হবে।

আর বিএনপি নেতাদের মতে, দলের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে মানুষের ঢল দেখে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন পাঁয়তারা শুরু করেছে। কারণ তারা জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। বিএনপি নেতাদের আশা, কোন ধরনের ঝুট-ঝামেলা ছাড়া বিএনপিকে সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করতে দেবে সরকার।

বুধবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপিকে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভাসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দিয়ে এই সরকারকে প্রমাণ করতে হবে, দেশে এখনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, চর্চা আছে।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে মানুষের সমর্থন আর ঢল দেখে আওয়ামী লীগ এখন শঙ্কিত। তারা (সরকার) জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপিই জয়ী হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বুঝতে পেরেছে তাদের কোন জনসমর্থন নেই। তাই তারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। বিএনপির কর্মসূচি পালনের সাথে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিদ্যমান কিনা, এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির কর্মসূচি পালন বিষয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিতও নয়।

তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের, সরকারের নয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হলে তাদের ভবিষ্যতেও সহায়তা করা হবে। তবে কোন বিশৃংখলা হলে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে মিথ্যাচার করছে। নির্বাচনকে বিএনপি যাতে বাধাগ্রস্ত, বিতর্কিত করতে না পারে সে বিষয়ে দল (আওয়ামী লীগ) এবং জনগণ সচেতন আছে।

Top