পিএসসির চেয়ারম্যান স্যারকে খোলা চিঠি

PSC-Chearmen.jpg

ফাইল ছবি

হোসনা আক্তার অদিতি

ডানামেলা রোদ্দুরময় আকাশ অবারিত দ্বার খুলে যখন নিজেকে জানান দিচ্ছে, তখন আপনার কাছে আমরা ৩৬তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ নন-ক্যাডারদের আত্মকথন লিখছি। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা যে, আমরা আপনার মতো সজ্জনকে পাশে পেয়েছি। আমরা ৩,৩০৮ জন নন-ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। আমাদের মেধামূল্যায়নের এই দীর্ঘ পথে আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণে আগ্রহী, কর্মউদ্যমী ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ তরুণ আপনার কাছে একটা প্রথম শ্রেণির চাকরি চাই।

প্রিয় স্যার,

৩৫তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ বেকার নন-ক্যাডারদের সবাইকে কোটা শিথিলকরণের মাধ্যমে একটি চাকুরি দেয়ার মাধ্যমে আপনার কর্মনিষ্ঠার প্রতিফলন দেখেছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ৩৬তম বিসিএস নন-ক্যাডারদেরও কোটা শিথিলকরণে ৯ম গ্রেডের একটি সরকারি চাকরিতে সুপারিশের মাধ্যমে আপনি আপনার অর্জিত সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন।

মাননীয় স্যার,

প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমে আমরা জেনেছি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রায় ৭০ হাজার নন ক্যাডার পদ খালি আছে। আমরা সবাই এদেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠ চুকিয়েছি। শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিটা পর্যায়ে সামনে থেকেছি নিজেদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে। তবুও আজ আমরা নন ক্যাডার; উচ্চ শিক্ষিত প্রায় ৩ লাখ বেকারের মাঝে ৩,৩০৮ জন। আপনার সুচিন্তিত কর্মপন্থার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপই পারে ৩৩০৮ জনের সবোর্চ্চ সংখ্যককে ৯ম গ্রেডের সরকারি একটি চাকরিতে সুপারিশ দানের পথ সুগম করতে।

এক্ষেত্রে যে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজ উদ্যোগে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে থাকে, তাদেরকে আপনি স্ব উদ্যোগ ও মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিবের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বিসিএসের ননক্যাডারে উত্তীর্ণদের বিশদ যোগ্যতা উল্লেখপূর্বক চিঠি প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধিকতর গুরুত্বের সহিত অধিক রিকুইজিশন পাঠাতে আগ্রহী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

প্রিয় স্যার,

আমরা এমন একজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি যিনি তাঁর সমস্ত অস্তিত্বে সোনার বাংলাকে লালন করেন। তাঁর দুঃখীদরদি মনের বক্তব্য, “জনগণের দুঃখের কথা আমার কাছে পৌঁছে দিন।”

আপনার কাছে বিনীত প্রার্থনা, আমাদের এই বাণীটুকু আপনি আমাদের হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিবেন।

“সুপ্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি মহানায়কের কন্যা, চেতনার বাতিঘর। সেই মহানায়ক, যার স্বপ্ন ছিলো একটা স্বনির্ভর সোনার বাংলা। আপনি জননী, পথপ্রদর্শক, সময়ের সংগ্রামী সাহসী রাষ্ট্রনায়ক। আমরা ৩,৩০৮ জন নন-ক্যাডার প্রত্যেকেই আপনার চেতনায় উদ্বুদ্ধ। আমরা সবাই আপনার চেতনাকে লালন করি। আমরা হতাশ হতে চাই না বরং আপনার কর্মমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আপনার সোনার বাংলা গড়ার সুদক্ষ কারিগর হতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, প্রত্যেককে একটি প্রথম শ্রেণির পদে অর্পণ করে আমাদেরকে সাথে নিয়েই ২০৪১ সালে সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করবেন। এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্রী, স্বয়ং আপনার হস্তক্ষেপের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি।”

সুপ্রিয় স্যার,

প্রতিটি নারীপ্রার্থীকে এতটা পথ আসতে বহু কষ্ট করতে হয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্রীর সহায়তায় প্রত্যেক নারী প্রার্থীর প্রতি আপনার সদয় দৃষ্টি প্রার্থনা করছি।

পরিশেষে, শ্রদ্ধেয় স্যার, আপনার কর্মনিষ্ঠার প্রতি আশ্বস্ত হয়ে বিনীত প্রার্থনা করছি, এতটা পথ পাড়ি দিয়ে আসার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ সংখ্যককে একটি ১ম শ্রেণি ও শতভাগ নিয়োগের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্যার আমরা একটা ১ম শ্রেণির চাকরি চাই। এটা ৩৬তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রত্যাশীদের আত্মকথন।

আপনার কাছে বিনীত প্রার্থনা, আমাদের এ আত্মকথন আপনি শুনবেন। আমরা আপনার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

লেখক : নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ৩৬তম বিসিএস নন ক্যাডার প্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে

Top