আপডেটঃ
আবারও প্রমাণ হলো দেশের প্রতিটি সেক্টর সরকারের নিয়ন্ত্রণেযোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম, দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে হবেছোটবেলার প্রেমিকাকেই বিয়ে করেছেন এই তারকারাইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে সকল যুদ্ধের জননী’লেনদেনে সাক্ষী-প্রমাণে কুরআনের বিধান৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারাটসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকুষ্টিয়ায় আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমান রক্তাক্তচট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়াতে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারযশোরের শিক্ষক সত্যজিৎ মন্ডল কর্মস্থল থেকে ৩১ বছরে একদিনও ছুটি নেননিপুলিশের মহাপরিদর্শক চট্টগ্রামে আসছেনচট্টগ্রামে তরুণীর পিঠে ছুরিকাঘাতচট্টগ্রামে পুকুরে সেচে ১০ ঘণ্টা অভিযান: ২টি অস্ত্র উদ্ধারলন্ডন পরিবহনের সুপার ভাইজার ৪১,৩৯০ পিস ইয়াবাসহ আটকবিকাশে’ অভিনব প্রতারণা “আপনি ধুয়ে ধুয়ে পানি খান”

পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে রোহিঙ্গারা

Naiyem-Ali-Hyder..jpg

ড. মো. নায়ীম আলীমুল হায়দার

বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন স্পট কক্সবাজার। আগামী নভেম্বরেই শুরু হচ্ছে পর্যটনের মৌসুম। প্রতি বছর এই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক আসে কক্সবাজারে। সংখ্যায় কম হলেও বিদেশী পর্যটকেরও উপস্থিতিও দেখা যায়। সারা বছর কমবেশি ব্যবসা করলেও ভরা মৌসুমের অপেক্ষায় থাকে পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল ও শত শত প্রতিষ্ঠান।কক্সবাজারের যানবাহন চালক, দোকানপাট ও সাধারণ মানুষের জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই পর্যটন। তাই সঙ্গত কারণেই এখানকার অধিবাসীরা শহরটিকে পরিপাটি ও ঝামেলাহীন দেখতে চায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে রোহিঙ্গা আসছে, তাতে পর্যটন মৌসুমে চরম ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও একই শঙ্কা বিরাজ করছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রেহিঙ্গা মধ্যে অধিকাংশই নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ। যারা এসেছেন তাদের চেহারায় কেবলই প্রাণে বাঁচার আকুতি। তারা এখানে থাকতে চান নিজভূমে নিরাপদ একটি অবস্থা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত। স্রোতের মতো আসা এই রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে শুরু করেছে। আর এরই মধ্যে পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য কক্সবাজার শহরের অলিগলিতে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। হাত পাতছে বিভিন্ন দোকান এবং সাধারণ মানুষের কাছে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন ভিক্ষুকের সাথে কথা হয়েছে লেখকের। সকলেই জানিয়েছেন তারা রোহিঙ্গা। পেটের দায়ে হাত পাতছেন। বিষয়টি এখন এখানকার অধিবাসিদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা উপস্থিতি পর্যটনশিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অধিবাসি ও ব্যবসায়ীদের ধারণা, এই রোহিঙ্গারা পর্যটন শিল্পের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো না যায়; তাহলে কক্সবাজারের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতে হয়ত পর্যটকেরা কক্সবাজার এড়িয়ে দেশের বাইরে ভ্রমনে যাবেন। আর এরপর কি হবে তা অনুমান যোগ্যও নয়। জীবিকা না থাকায় জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা শিগগিরই চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি এমনটা হয় তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পর্যটন খাতে।স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে ইতোমধ্যে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে স্থানীয়দের। তাদের ধারণা, এই মুহুর্তে রোহিঙ্গাদের ঠেকানো না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এসব রোহিঙ্গারা টাকার জন্য সবকিছু করতে পারে। হত্যা থেকে শুরু করে পতিতাবৃত্তিতেও জড়িয়ে পড়ে অনায়াসে।  রোহিঙ্গাদের অতীত ইতিহাস সেটাই বলে। আর এঅবস্থায় পর্যটনবান্ধব পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। যদিও পর্যটন স্থানগুলোয় রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবী করছে প্রশাসন। তাদের দাবী, রোহিঙ্গারা যাতে পর্যটন স্থানগুলোয় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনী টহল ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গারা যদি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে থেকে যায় এবং রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই কক্সবাজারের পর্যটন  শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে খুব দ্রুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি কার্যকর মীমাংসা করতে হবে; যা কক্সবাজারের পর্যটন তথা দেশের সার্বিক পর্যটন ব্যবস্থার জন্য সহায়ক হয় ।

লেখক- সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আইন বিভাগ, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

Top