আমরা কি ত্রাণও দিতে পারব না: মির্জা আব্বাসের প্রশ্ন

Mirza-Abbas-BNP.jpg

ত্রাণবাহী গাড়ি আটকে দেয়ার পর পুলিশের সাথে কথা বলছেন মির্জা আব্বাস

ওয়ান নিউজঃ  নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের কাছে বিতরণের জন্য বিএনপির ত্রাণবাহী গাড়ি আটকে দিয়েছে পুলিশ। একইসাথে বিএনপির নেতাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। পরে বিকেলে নেতৃবৃন্দ হোটেলে গিয়ে অবস্থান নিলেও ত্রাণবাহী গাড়িগুলো জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সার্কিট হাউস সড়কের একপাশে ব্যারিকেডের মধ্যে ছিল।

বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণবাহী গাড়ি বহরে কয়েক দফা বাধা দেয়ার অভিযোগ করা হয়।  বুধবার দুপুর ২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে উখিয়া কুতুপালংয়ের উদ্দেশ্যে ত্রাণবাহী গাড়িবহর কক্সবাজার থেকে রওনা দেয়ার প্রাক্কালে গাড়ি বহরের সামনে পুলিশের একটি গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। বেলা সাড়ে তিনটায় উখিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার চেষ্টা করা হলে আবারও তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়া পুলিশ। পুলিশ সুপার কার্যালয় মোড়ে সড়কে সারাদিন অবস্থান নেয় পুলিশ। বারবার পুলিশি বাধার মুখে পড়েন মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মির্জা আব্বাস ব্যারিকেড থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তাকে হোটেলে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, অসহায় শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ বিতরণে কোনো রাজনীতি নেই। তবুও সরকার আমাদেরকে ত্রাণও দিতে দিচ্ছে না। এটা নিন্দনীয় ও চরম অমানবিক কাজ। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য নিয়ে আমরা কক্সবাজার এসেছিলাম কিন্তু এখানে পুলিশ আমাদের গাড়ি বহরকে নানা অযুহাতে আটকে দিয়েছে। শরণার্থীদের কাছে যেতে দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, কক্সবাজার প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হলো আপনারা দুইটার পরে যান। কুটনীতিকরা চলে গেলে আপনারা যাবেন। আমরা মেনে নিলাম। আমার দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে রওনা দিলে আমার গাড়ির পিছনের সবগুলো গাড়ি আসতে দেয়নি। পুলিশ গাড়ি বহরের মুখোমুখি তাদের একটি গাড়ি দিয়ে আমাদের বহরকে আটকে দেয়।

মির্জা আব্বাস আরো বলেন, এখানে আমরা ত্রাণ দিতে এসেছি অন্য কিছু না। তাই সরকারের উচিত ছিল আমাদের নির্বিঘ্নে নিপীড়িত মানুষের কাছে যেতে দেয়া কিন্তু তারা পদে পদে বাধা দিচ্ছে। এককভাবে কোনো রাজনৈতিক দল ২০ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আসেনি, এমন কি আওয়ামী লীগও আসেনি। ওবায়দুল কাদের সাহেব যদি এসে থাকেন সরকারের কিছু মালামাল নিয়ে এসেছেন, যা’ একেবারে অপ্রতুল। আমরা প্রায় দশ হাজার পরিবারের পঞ্চাশ হাজার সদস্যের জন্য ত্রাণ নিয়ে এসেছি। বিশাল ত্রাণের বহর দেখে আওয়ামী লীগ সহ্য করতে পারছে না, এটা ওনাদের ভালোলাগছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেত্রী যদি নির্যাতিত মানুষের পক্ষে মাঠে না নামতেন এবং রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিবৃতি না দিতেন তাহলে আওয়ামী লীগ রোহিঙ্গাদের জন্য মাঠে নামতো না। খালেদা জিয়ার নির্দেশে আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে এসেছি। আওয়ামী লীগের উচিত ছিল আমাদের ত্রাণ বহরকে স্বাগত জানানো। আমরা কী দেখলাম? আমরা ত্রাণও দিতে পারব না! গতকাল আমাদের বিমানকে দুই ঘন্টা বিলম্ব করানো হলো। সমগ্র কক্সবাজারকে বন্ধ করে দেয়া হলো। রোহিঙ্গাদের জন্য সকল ত্রাণবাহী গাড়ি পৌঁছাতে পারল না। শরণার্থীরা সারাদিন কষ্ট করল। লোক দেখানো কাজ বিএনপি করে না বরং আওয়ামী লীগই লোক দেখানো কাজ করে। মিথ্যা কথা ওনারই বলে আমরা বলি না। আওয়ামী লীগের আগে আমাদের নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমেছে। আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে আসছি রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে যে তাদের আরো কী প্রয়োজন আছে। আমরা এখানে ত্রাণ দিতে এসেছি ঝগড়া করতে আসিনি; ত্রাণ দিয়েই ফিরবো কক্সবাজার থেকে।

উল্লেখ্য বিএনপির ত্রাণ বহরের সাথে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামিম, সহসাংগাঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ হারুন, কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ।

Top