মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়ন বন্ধ হোক

1News-Editor.jpg

কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনটি স্ববিরোধিতায় ভরা। একদিকে তারা দাবি করছে, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা বা জাতিগত নিপীড়ন হয়নি। অন্য দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৮৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাই না ঘটবে, কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো? রোহিঙ্গাদের ওপর চার পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও চিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয়েছে। এ রকম অসংখ্য নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও চিত্র রয়েছে, মিয়ানমার সরকার চোখ বন্ধ করে থাকলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তা হরদম প্রকাশ পাচ্ছে।

মিয়ানমারের এই জাতিগত নিপীড়ন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের কথাই মনে করিয়ে দেয়। সে সময় বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু মিয়ানমারের দরিদ্র রোহিঙ্গারা দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না। বরং তারা যেটুকু প্রতিবাদ করছে তা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। মংডুর বাঙালি অধিবাসীদের সংখ্যা, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা থাকা প্রমাণ করে না সেখানে কোনো গণহত্যা বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। নিরুপায় হয়েই রোহিঙ্গারা সেখানে আছে। আর সব রোহিঙ্গা যে দেশটিতে থাকতে পারেনি তার প্রমাণ ৭০ হাজারের চেয়েও বেশি শরণার্থীর বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ।

মিয়ানমারের সরকারি কমিশন যখন এই আজগুবি তথ্য দিচ্ছে, তখন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশন বলছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চলছে। কমিশনের সদস্যরা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও আরও সোচ্চার হতে হবে। এখন পর্যন্ত তারা মৌখিক বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কিছুই করেনি। বিস্ময়কর হলো, দেশটিতে এই হত্যা ও নৃশংসতার ঘটনা ঘটছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চির শাসনামলে; যদিও সংবিধান অনুযায়ী তিনি সরকারপ্রধান নন। এটি যেমন নোবেল বিজয়ীর জন্য লজ্জার, তেমনি রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারেরও।

অবিলম্বে বন্ধ হোক রোহিঙ্গা নিপীড়ন।

Top