ঈদকে সামনে রেখে সেজেছে বাঁশখালী ইকোপার্ক

Porjoton-ECO.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জের আওতায় জলদী বনবিটের সহস্রাধিক হেক্টর এলাকা জুড়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক। ছোট বড় অসংখ্য লেক পাহাড় ঘেরা এই বাঁশখালী ইকোপার্কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের আনন্দ বিনোদনে সাথী হয়ে আছে। এক সময় এখানে বিভিন্ন প্রজাতির চম্পা ফুল, গর্জন, বৈলাম, তেলসুর, সিভিটসহ নানা ধরনের বনাঞ্চলে ভরপুর ছিল। ছিল বন্য শুকর, সাম্বার, চিতা বিড়াল, খেক শিয়াল, হরিণ, ভাল্লুক, উদবিড়াল বিচিত্র পাখি অজগরসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী।

 

এই বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য নিশ্চিত করার জন্য বাঁশখালীর জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের আওতায় ২০০৪ সালে বাঁশখালী ইকোপার্কের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ সময় এই ইকোপার্কে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অনেক পর্যটনবান্ধব স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই ইকোপার্ককে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নতুন করে কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানান চট্টগ্রাম জীব বৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম গোলাম মওলা।

 

তিনি বলেন, বাঁশখালী ইকোপার্কের মত এত বিশাল স্থান জুড়ে উঁচুনিচু টিলাসমৃদ্ধ ইকোট্যুরিজ্যম ও চিত্ত বিনোদনের সুযোগ আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না। তাই সম্প্রতি জেলার মিটিংয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ককে আধুনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাব প্রেরণসহ প্রকল্প গ্রহণে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাঁশখালী ইকোপার্ক ২০০৩ এবং ২০০৪ অর্থবছরে চুনতি অভয়ারণ্যে সহস্রাধিক হেক্টর বনভূমি নিয়ে এই পার্কটির কার্যক্রম শুরু হয়।

 

পার্কটি এক সময় বামের ছড়া ও ডানের ছড়া নামে পরিচিতি লাভ করলেও ২০০৪ সালের পর থেকে বাঁশখালী ইকোপার্ক নামে পরিচিতি লাভ করে। দীর্ঘ সময় বাঁশখালী ইকোপার্কে আধুনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধকরণ, চিত্ত বিনোদনের জন্য ইকোট্যুরিজমের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির জন্য তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, প্রাকৃতিক বনজসম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি, জলাধার ও আশেপাশের এলাকায় জলজ পাখির আবাস্থল উন্নয়নে অতিথি পাখির আশ্রয়স্থল সৃষ্টি, বিরল ও বিলুপ্ত প্রায় বনজ, ফলজ, ভেষজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের বাগান সৃজন, উদ্ভিদ প্রজাতির বৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুর অবস্থান।

 

এছাড়াও সুউচ্চ টাওয়ারের মাধ্যমে সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ সৌন্দর্য্য ভ্রমণপিপাসুদের নানাভাবে আকৃষ্ট করে। চুনতি অভয়ারণ্যে এক সময় ৪৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৮৫ প্রজাতির পাখি, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণীর অবস্থান থাকলেও কালক্রমে বনের উপর জনচাপ সৃষ্টি হওয়ায় তা অনেকটা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যাতে করে ওইসব বন্যপ্রাণী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে তারই লক্ষ্য নিয়ে চুনতি অভয়ারণ্যের কার্যক্রম। বাঁশখালী ইকোপার্ক ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান, ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ইকোপার্কের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে এসে নিরাপদে তাদের ভ্রমণ করতে পারেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে যেকোন গাড়ি যোগে পৌরসভার দক্ষিণ জলদী মনছুরিয়া বাজার নেমে অনায়াসে ইকোপার্কে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা বাজার থেকে যেকোন রিক্সা অথবা সিএনজি যোগে সহজেই ইকোপার্কে যাওয়া যায়। এক সময় ইকোপার্কে খাওয়ার দোকানের স্বল্পতা থাকলেও বর্তমানে বেশ কিছু দোকান গড়ে উঠেছে ইকোপার্কের প্রবেশ দ্বারে। তবে খাবার উন্নত না হলেও ক্ষুধা নিবারণে মোটামুটি চালিয়ে যাওয়া যায়। আসন্ন কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে নানা ধরনের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানান পার্কের ইজারাদার সোলেমান বাদশা।

Top